দ্য ওয়াল ব্যুরো: নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন চলেছে। এখনও কোথাও কোথাও আংশিক লকডাউন চলছে। দেশের এই দুর্দিন শুরুর সময়ে আচমকা চরম সংকটে পড়েছিলেন ভিন রাজ্যের শ্রমিকরা। সারা দেশে যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, সেই তখন তাঁদের সমস্যার সমাধানে ত্রাতা হয়ে হাজির হয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ। কখনও বসে করে শ্রমিকদের ফেরত পাঠিয়েছেন নিজের রাজ্যে। কখনও বা বিমানে করে উড়িয়ে এনেছেন পরিযায়ী শ্রমিকদের।
এখানেই শেষ নয়। এর পরে বারবারই দেখা গেছে অভিনেতা কখনও দরিদ্র কৃষককে কিনে পাঠাচ্ছেন ট্র্যাকটর, কখনও পরীক্ষার্থীকে বই। দিন কয়েক আগে ফিলিপিন্স থেকে ৩৯ জন শিশুকে দিল্লিতে আনার ব্যবস্থা করছেন সোনু সুদ, লিভারের অস্ত্রোপচারের জন্য।
চারদিকে কার্যত ধন্য ধন্য পড়ে গেছে তাঁকে নিয়ে। অনেক পরিচালক ইতিমধ্যেই তাঁর বায়োপিক বানানোর প্রস্তাব রেখেছেন। তবে এসবে এখন মনে নেই সোনু সুদের। আপাতত মানুষের সেবার কাজই মন দিয়ে করতে চান তিনি। এবার জানা গেল, রাজস্থানের এক দরিদ্র পরিবারের খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তাঁকে কিনে দিয়েছেন জুতো।
জয়পুরের মনোজ জাঙ্গিরের কথা সম্প্রতি লেখা হয়েছিল স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের পাতায়। দৌড়বীর মনোজ জাতীয় স্তরে বেশ কিছু জয় পেলেও এবার তাঁর স্বপ্ন অলিম্পিক্সে দেশের হয়ে অংশগ্রহণ করা, পদক আনা। কিন্তু হলে কী হবে, দুবেলা দুমুঠো অন্ন সংস্থানই দায় গরিব পরিবারের। সেখানে ধুঁকে মরতে বসেছে মনোজের স্বপ্ন।
মনোজ অবশ্য হাল ছাড়েননি। নানারকম চেষ্টায় অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ভাল খাবার জুটছে না মোটেই, এমনকি দৌড়নোর জন্য যে জুতো দরকার, সেটাও কেনার ক্ষমতা নেই। দারিদ্রের সঙ্গে লডা়ই করে মনোজের এই স্বপ্ন ছুঁতে চাওয়ার লড়াইয়ের কথা যে প্রতিবেদনে বেরোয়, সেটা শেয়ার করেন মনোজ। সেখানে তিনি সোনু সুজকে টুইট করে আবেদন করেন, একজোড়া জুতোর। লেখেন, জুতো না পেলে তাঁর খেলার স্বপ্ন ভেঙে যাবে, অলিম্পিক্সেও যাওয়া হবে না।
https://twitter.com/SonuSood/status/1300283341837447170
সে টুইট সোনুর চোখে পড়ার অপেক্ষা। খবর পেয়েই জুতো কিনে পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। সেই কথা টুইট করে জানিয়ে লিখেছেন, আজই পৌঁছে যাবে জুতো। সোনুর টুইট দেখে উচ্ছ্বসিত নেটিজেনরা। অনেকেই তাঁকে ভগবানের আসনে বসাচ্ছেন। বলছেন, মানুষকে পরিত্রাণের এক অমোঘ নাম হয়ে উঠেছেন সোনু।
এখানেই শেষ নয়। এদিনই সোনু জানতে পারেন, কৃষক পরিবারের এক তরুণী সিভিল সার্ভিল পরীক্ষা দিতে চান, কিন্তু বইখাতা নেই তাঁর। টুইটারে সাহায্য চেয়ে পাঠিয়েছিলেন তাঁর দাদা। টুইট দেখেই সোনু আশ্বস্ত করেছেন, আজ, মঙ্গলবারই তাঁর বোনের কাছে পৌঁছে যাবে সিভিল সার্ভিল পরীক্ষার বইপত্র।
https://twitter.com/SonuSood/status/1300283142033403904