দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রমশ থ্রিলারের মতো হয়ে উঠছে কর্নাটকের রাজনীতি। সরকার গড়ার জন্য মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্যপাল ভাজুভাই ভালার সঙ্গে দেখা করেছে বিজেপি ও কংগ্রেস, জেডি -এসের জোট। বিজেপির বি এস ইয়াদুরাপ্পা এবং জেডি -এসের কুমারস্বামী দুজনেই দাবি করেছেন, বিধানসভায় তাঁরা গরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন। এখন রাজ্যপাল কাকে ডাকেন সেদিকেই তাকিয়ে আছে সারা দেশ।
এদিন সকাল থেকেই ভোটের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছিল। দুপুর অবধি ট্রেন্ড দেখে অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, বিজেপি নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পাচ্ছে। বিজেপির অফিসের সামনে উৎসব পর্যন্ত শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই বদলে গেল পরিস্থিতি।
কর্নাটক বিধানসভায় মোট আসন ২২৪ টি। যে পার্টি ১১২টি আসন পাবে সেই সরকার গড়তে পারবে। এ দিন বিকেলে স্পষ্ট হয়ে যায়, বিজেপি ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে পারছে না।
আরও কিছুক্ষণ পরে দেখা যায়, কংগ্রেস ও জেডি - এসের মোট আসন জুড়লে পেরিয়ে যাচ্ছে ম্যাজিক ফিগার।
তার পরে আসরে নামেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। তিনি জেডি - এস নেতা এইচ ডি দেবগৌড়াকে ফোন করে বলেন, আমরা আপনাদের দলকে সমর্থন করব। আপনার ছেলে কুমারস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হবেন। আপনি সরকার গড়ার দাবি জানান। সেই শুনে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান দেবগৌড়া।
চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের তরফে এক বিবৃতি দেন রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা। তাতে বলা হয়, কংগ্রেস ও জেডি - এস যৌথভাবে ৯৫ টি আসন পেয়েছে। এগিয়ে আছে আরও ২০টিতে। এই জোট যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে তাতে সন্দেহ নেই। এই জোট প্রদত্ত ভোটের মোট ৫৬ শতাংশ পেয়েছে।
এর পর অতীতের উদাহরণ দিয়েছে কংগ্রেস। বিবৃতিতে আছে, ১৯৯৮ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ীকে সরকার গড়তে ডাকার সময় তখনকার রাষ্ট্রপতি এম কে নারায়ণন স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, যদি কোনও দল বা জোট নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা না পায় তবে যে দল বা জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে তাকেই প্রথমে ডাকতে হবে।
বিজেপির দাবি উড়িয়ে দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই দল এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বটে কিন্তু সেজন্যই যে তাদের সরকার গড়তে ডাকতে হবে তার কোনও মানে নেই। অতীতে বিজেপি আমলেই গোয়া, মণিপুর ও মেঘালয়ে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ না হওয়া সত্ত্বেও তাদের সরকার গড়তে ডাকা হয়েছিল।
অন্যদিকে বিজেপির নেতারা বলছেন, কুমারস্বামী কংগ্রেসের সাহায্যে সরকার গড়তে গেলে বিরাট ভুল করবেন। কংগ্রেস কখনও জোটসঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকে না। বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ টুইট করে বলেছেন, আমাদের দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বানানোর জন্য কর্নাটকের মানুষকে ধন্যবাদ জানাই। ভোটের ফলে স্পষ্ট, তাঁরা কংগ্রেসের পরিবারতন্ত্র ও দুর্নীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।