
Somnath Shyam and Arjun Singh
শেষ আপডেট: 5 March 2024 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুণাল ঘোষ এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বন্দ্ব নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। তার মধ্যে সোমবার তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন তাপস রায়। সবমিলিয়ে শাসক শিবিরের অস্বস্তি বহাল। এই আবহে ফের মাথাচাড়া দিল অর্জুন-সোমনাথ সংঘাত। আসন্ন লোকসভা ভোটে যাতে অর্জুন সিংকে দল ব্যারাকপুর কেন্দ্রে টিকিট না দেয় সেই আর্জি শীর্ষ নেতৃত্বকে করেছেন জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম। এমনকী এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠিও দেবেন বলে ঠিক করেছেন তিনি।
ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং এবং জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের কোন্দল বাংলার রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। এর আগে একাধিকবার অর্জুনকে নিশানা করে তাঁর বিরুদ্ধে হলুদ ফাইল প্রকাশ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সোমনাথ। এবার তাঁকে যাতে দল ভোটের টিকিটই না দেয়, সেই ব্যবস্থা করতে উঠেপড়ে লেগেছেন তিনি। সোমনাথের দাবি, এলাকাবাসী সাংসদ হিসাবে চাইছেন না অর্জুন সিংকে। এই নিয়ে নিজের বিধানসভা এলাকায় কিছু মানুষের সইও সংগ্রহ করেছেন সোমনাথ। সেই সইসমেত চিঠিই তিনি দলনেত্রীকে পাঠাতে চান।
তৃণমূল সভাপতি গোপাল মজুমদার খুনের ঘটনার ফাইল ফের ওপেন করে মূল চক্রীকে গ্রেফতারের দাবিতে আগে সরব হয়েছিলেন জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম। অন্যদিকে দুষ্কৃতীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল জগদ্দলের তৃণমূল নেতা ভিকি যাদবের। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অর্জুন সিংয়ের আত্মীয় পাপ্পু যাদব ওরফে সঞ্জীব যাদবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে সমাজবিরোধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন জগদ্দলের বিধায়ক।
গত ফেব্রুয়ারি মাসেই বিধানসভায় এসে একই দাবি করেছিলেন সোমনাথ শ্যাম। লোকসভা ভোটে অর্জুনকে যাতে টিকিট না দেওয়া হয়, সেজন্য দলের নেতৃত্বর কাছে আবেদন জানাবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। জগদ্দলের বিধায়কের কথা ছিল, "খুনী বা খুনীর পরিবারকে যেন দলে না রাখা হয়, তাদের যেন টিকিট না দেওয়া হয়. ব্যক্তিগতভাবে আমি দলের কাছে এই আবেদন রাখব।" সোমনাথ এও অভিযোগ করেন, অর্জুন তলে তলে বিজেপির সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে চলেছেন।
২০১৯ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন অর্জুন সিং। তবে তিন বছরের মধ্যেই আবার পুরনো দলে ফেরেন। অন্যদিকে, এই সময়ের মধ্যেই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে আসেন সোমনাথ শ্যাম। তারপর থেকেই কার্যত দুজনের মধ্যে সংঘাতের শুরু। এই ইস্যুতে নাম না নিয়ে হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে উত্তর ২৪ পরগনায় এক জনসভা থেকে তাঁর বার্তা ছিল, পুরনো এবং নতুনের মিশেলেই দল। সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে চলতে হবে। কেউ যেন কাউকে অসম্মান না করে। কোনও ঝগড়া বরদাস্ত করা হবে না। তবে দুই নেতার মধ্যে সম্পর্কের সমীকরণ যে এতটুকু বদলায়নি, তা আবারও পরিস্কার হয়ে গেল।