দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার রাজ্যসভায় পেশ হতে চলেছে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী বিল। তার আগে এদিন সকালে সংসদের লাইব্রেরি বিল্ডিং-এ বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠক হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “কয়েকটি দল পাকিস্তানের ভাষায় কথা বলছে।” প্রধানমন্ত্রী বাদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি, তথ্য ও আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর এবং নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু সংসদে ওই বিল পেশ করা নিয়েই প্রবল আপত্তি জানায় কংগ্রেস, তৃণমূল ও বামেরা।
এদিন বেলা ১২টা নাগাদ লোকসভায় বিলটি পেশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাশ করা দেশের জন্য অপরিহার্য। একই সঙ্গে বিরোধীদের উদ্দেশে অমিত শাহ জানান, “প্রস্তাবিত এই বিলকে কোনওভাবেই সংখ্যালঘু বিরোধী বলা যায় না। এই বিল ০.০১ শতাংশও সংখ্যালঘু বিরোধী নয়”।
সেই যুক্তি শুনতে চাননি বিরোধীরা। বরং লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী, তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়, কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর প্রমুখ সংসদের অধিবেশন বসার আগেই স্পিকার ওম বিড়লার কাছে নোটিশ পেশ করেন। তাতে তাঁরা দাবি করেন, নাগরিকত্ব সংশোধন বিল সংসদে পেশ করতেই দেওয়া যাবে না।
তার পরেও বিলটি লোকসভায় পেশ করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিল পেশের বিরোধিতা করে অধীর চৌধুরী বলেন, নাগরিকত্ব বিলটি সংবিধান বিরোধী। সংবিধানের ১৪ ধারায় দেশের সব মানুষের সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই বিলের মাধ্যমে সমাজের একটি সম্প্রদায়কে পৃথক ভাবে দেখা হচ্ছে। সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। তাই এই বিল কোনও ভাবেই সংসদে পেশ করতে দেওয়া যায় না। একই মত জানান, তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ও।
অবশেষে ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে এই বিল পেশ করা হয় লোকসভায়। ধ্বনি ভোটে সংসদে উপস্থিত ৩৭৫ জন সাংসদের মধ্যে পক্ষে ভোট দেন ২৯৩ জন। বিপক্ষে ভোট দেন ৮২ জন। তারপরেই চিৎকার করে নিজেদের উল্লাস প্রকাশ করেন বিজেপি সাংসদরা। উল্টে বিরোধী সাংসদরা তখনও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।
দীর্ঘ বিতর্কের পর মধ্যরাতে লোকসভায় নাটকীয় ভাবে পাশ হয় নাগরিকত্ব সংশোধন বিল। এমনিতেই লোকসভায় বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এর পরেও বিল নিয়ে ভোটাভুটি চান বিরোধীরা। বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ৩১১টি। আর বিলের বিপক্ষে ৮০টি ভোট পড়ে। ফলে বিলটি অনায়াসে পাশ হয়ে যায়।