দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং তার জেরে থাবা বসানো কোভিড-১৯ রোগ নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্নের শেষ নেই। শেষ নেই কৌতূহলেরও। অনেকেই পুরনো নানা সংক্রামক অসুখের সঙ্গে করোনাভাইরাসের জেরে সৃষ্ট কোভিড ১৯ রোগের তুলনা করে প্রশ্ন তুলছেন, এই অসুখও কি ততটাই মারাত্মক? এর ধরনও কি তেমনটাই? বিশেষত সার্স বা মার্স অসুখের সঙ্গে এই অসুখকে বেশি করে মেলাতে চাইছেন অনেকে।
কিন্তু এক কথায় বলতে গেলে, না। করোনাভাইরাসের সঙ্গে সার্স বা মার্সকে একসারিতে ফেলা যায় না। আদতে করোনাভাইরাস হল শ্বাসনালিতে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম ভাইরাসগুলির মতোই একটি সাধারণ ভাইরাস, যার অনেকগুলি ধরন রয়েছে। এই ভাইরাসের দেহে মুকুটের মতো খাঁজ কাটা রয়েছে বলে এর এরকম নামকরণ হয়েছে। কিছু করোনাভাইরাসের ফলে মানুষের যেমন শুধু সর্দি-কাশি-জ্বর হয়, তেমনই এমন কিছু করোনাভাইরাসের ধরনও এমনও রয়েছে যার জন্য গৃহপালিত পশু, উট, বাঁদুরের নানারকম রোগ হয়।
নভেল করোনাভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পশু ও মানুষ-- এই দুইয়ের শরীরেই হতে পারে। এবং দু’ক্ষেত্রেই এই ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক। দ্রুত একজনের থেকে অন্যজনের দেহে পরিবাহিত হতে পারে। এবং খুব বিরল হলেও, পশুদের শরীর থেকেও মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে।
এমন সংক্রমণ মূলত সার্স কভ (SARS-CoV) এবং মার্স কভের (MARS-CoV) ক্ষেত্রে হয়। যেমন মার্স কভ তথা মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনাভাইরাসের উৎপত্তি ও সংক্রমণ শুরু হয়েছিল উটের শরীর থেকে। আবার ভাম বিড়ালের শরীরে উৎপত্তি হয়েছিল সার্স-কভ তথা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম।
কোভিড-১৯ তথা নভেল করোনাভাইরাসের উৎপত্তিও পশুর শরীর থেকেই হয়েছে বলে এখনও পর্যন্ত জানা গেছে। তার পরেই সেখান থেকে মানুষের শরীরে সংক্রামিত হয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের সঙ্গে কিছুটা সামঞ্জস্য রয়েছে সার্স করোনাভাইরাসের। এ ব্যাপারে আরও নিবিড় গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এ ব্যাপারে নতুন কোনও তথ্য পাওয়া গেলেই সবাইকে তা জানানো হবে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ বা লক্ষণ কী কী?
সংক্রমণের ২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে মানব শরীরে এই সংক্রমণের লক্ষণগুলি দেখা যেতে পারে। ব্যক্তিবিশেষে লক্ষণ বা সংক্রমণের তীব্রতারও ফারাক হতে পারে। নবেল করোনাভাইরাসের খুব সাধারণ লক্ষণ হল জ্বর, শরীরে ক্লান্তি এবং শুকনো কাশি। গায়ে ব্যথা বা শ্বাসের সমস্যাও হতে পারে। কারও আবার জলের মতো সর্দি হয়, গলায় সংক্রমণ হয়। কারও আবার ডায়রিয়াও হতে পারে। কোনও লক্ষণই প্রথমে খুব একটা তীব্র হয় না। কিছু মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ হলেও তাঁদের শরীরে আবার এই অসুখের কোনও লক্ষণই দেখা যায় না।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ কি নিরাময়যোগ্য?
আশার কথা হল, বেশিরভাগ আক্রান্ত (৮০%) কোনও রকম বিশেষ চিকিৎসা ছাড়া এমনিতেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে বয়স্ক মানুষ যাঁরা, বিশেষ করে যাঁদের এমনিতেই হৃদপিণ্ডে সমস্যা রয়েছে বা ডায়াবেটিস রয়েছে, উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা আছে, তাঁরা সহজেই এই ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে কাবু হয়ে পড়তে পারেন। তাই বলে তা সারার সম্ভাবনা নেই, তা নয়। পর্যাপ্ত পরিচর্যা এবং বিশ্রামে অসুখ সেরে যাবে। তবে চ্যালেঞ্জ হল, তাঁর মাধ্যমে যাতে অন্য কারও না ছড়ায় অসুখ, তা নিশ্চিত করা।