
শেষ আপডেট: 20 February 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নোভেল করোনাভাইরাসকে রুখতে হিমশিম খাচ্ছে গোটা বিশ্ব। চিনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। ভারতেও করোনাভাইরাসের আতঙ্ক কম কিছু নয়। তার মাঝেই চিন্তা বাড়িয়ে ফের হানা দিল সোয়াইন ফ্লু। বেঙ্গালুরুর স্যাপের অফিসে দুই কর্মী সোয়াইন ফ্লু-তে আক্রান্ত জেনেই সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভারতে স্যাপের সমস্ত অফিস সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল বহুজাতিক জার্মান তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা স্যাপ।
বৃহস্পতিবারই বেঙ্গালুরুতে স্যাপের মূল অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। সংস্থা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুরগাঁও ও মুম্বইয়ের অফিসও বন্ধ হতে চলেছে। সংস্থার তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সংক্রামিত কর্মীদের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। স্যাপের বেঙ্গালুরু হেডকোয়ার্টারে শতাধিক কর্মী কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে, সেই জন্যই অফিস বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। মুম্বই ও গুরগাঁওয়ের অফিসও বন্ধ থাকবে। কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করতে পারবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নয়া করোনাভাইরাস সিওভিডি-১৯ এর সংক্রমণে চিনে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দু’হাজার। তবে সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমছে বলেই জানিয়েছে সে দেশের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন। হুবেই প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সেখানে নতুন করে ১৬৯৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার এই সংখ্যাটা ছিল ১৮০০-র বেশি। আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির আরও কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা করছে বেজিং। এদিকে উহান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা ৬৪৭ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে তিনশো জনকে মানেসরের কোয়ারেন্টাইন ইউনিট থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই সোয়াইন ফ্লুয়ের সংক্রমণ নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
গত বছরই সোয়াইন ফ্লুয়ের তাণ্ডবে আমাদের দেশে মৃত্যু হয় দুশোরও বেশি। অন্তত সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষের রক্তে মিলেছিল সোয়াইন ফ্লুয়ের ভাইরাস। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি এমন একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ যা চট করে ধরা পড়ে না। উপসর্গ আর পাঁচটা ভাইরাসঘটিত জ্বরের মতোই। ফলে চিকিৎসা শুরু করতেই বেশ খানিকটা সময় লেগে যায়। ফলে দাপটও বাড়ে রোগের। জ্বর, শ্বাসকষ্ট, হাঁচি-কাশি, মাথা ব্যথা, গায়ে যন্ত্রণা, পেটের সমস্যা থেকে মানসিক অবসাদ—এই ভাইরাসঘটিত রোগের উপসর্গ একাধিক। করোনাভাইরাসের মতোই, প্রয়োজনীয় নমুনা পরীক্ষায় সোয়াইন ফ্লু ধরা পড়লেই আক্রান্তকে আলাদা ভাবে রাখা হয়। কারণ এই সংক্রমণ ছড়ায় হাঁচি-কাশি, আক্রান্তের সংস্পর্শ থেকেই। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের মধ্যে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল রাজস্থান, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রে।