
শেষ আপডেট: 1 November 2023 07:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতে দামি সিগারেট। সুখটানেই বাজার কাঁপাচ্ছে বয়ঃসন্ধি। বারোর কিশোরী হোক বা আঠেরোর টিনএজ ধোঁয়ার রিঙেই বন্দি স্টাইল স্টেটমেন্ট। ম্যানিকিওর করা এক হাতে দামি মোবাইল ও অন্যহাতে সিগারেট না থাকলে ঠিক ‘ডিজিটাল’, ‘ডিজিটাল’ ফিলিং আসে না। স্বাস্থ্য সচেতন ছিপছিপে মেয়েটা ডায়েটের থালায় ভাজাভুজি রাখতে নারাজ, কিন্তু ফেলুদা স্টাইলে সিগারেট ধরিয়ে আয়েশ করে টান দেওয়ার মধ্যেই স্মার্টনেস খুঁজে পায়। হালে শুধু শহর কলকাতা নয়, জেলায় জেলায় মেয়েরা ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এমনকী সমীক্ষা বলছে, পুরুষদের থেকেও মহিলা ধূমপায়ীর সংখ্যা এখন বেশি। ফলে রাজ্যজুড়ে বাড়ছে বন্ধ্যত্ব, ফুসফুসের রোগ, ক্যানসারের মতো মারণ ব্যধি।
পুরুষদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, কোথায় বা ছেলেদের তুলনায় বেশি পরিমাণ স্মোক করতে দেখা যাচ্ছে কলেজপড়ুয়া বা সদ্য চাকরিতে যোগ দেওয়া আধুনিকাদের। কিছু কিছু মধ্যবয়সি মহিলাও সামিল হচ্ছেন তাতে। এভাবে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া মেয়েদের ধূমপান প্রবণতা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা। স্কুল পালিয়ে সিগারেট ফোঁকার অভ্যাস ছিল এককালে। তবে সেটা মাঝেসাঝে, লুকিয়ে। এখন সেই অভ্যাসটাই ক্রনিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে ১২ থেকে ১৮-১৯ বছর, অন্যদিকে ২৫ থেকে ৩০ বছর, ধূমপানে পুরুষদের রীতিমতো টেক্কা দিচ্ছেন মহিলারা। মধ্য চল্লিশের মহিলারাও পিছিয়ে নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু)রিপোর্ট বলছে, মাত্রাতিরিক্ত ধূমপানে বয়ঃসন্ধিতেই অনিয়মিত হচ্ছে ঋতুস্রাব। মহিলাদের মধ্যে বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বন্ধ্যত্ব।
মার্কিন মুলুকে জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ মহিলাই সিগারেটে আসক্ত। এখন এ রাজ্যে ১৩-১৫ শতাংশ মহিলাই সিগারেট টানতে অভ্যস্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সমীক্ষা বলছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪৭ শতাংশ মহিলা ধূমপানের কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। শুধু ক্যানসার নয়, হরমোনের সমস্যা থেকে স্ত্রীরোগ সবই ছিল। ২০০৫-২০১০ পর্যন্ত মহিলাদের মধ্যে ধূমপানের আসক্তি বেড়েছে ১.৪%-২.৯%। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে, শুধুমাত্র সুখটানে আসক্তির কারণেই ফি বছর বিশ্বে এক লক্ষেরও বেশি মহিলার মৃত্যু হয়। ২০২৫ সালে গিয়ে এই আসক্তি আরও ২০ শতাংশ বাড়বে বলেই মত গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোবাকো সার্ভের বিশেষজ্ঞদের।
এটা বলাই বাহুল্য, কারণ সিগারেটের কু-প্রভাব সম্পর্কে আলাদা করে বলার কিছু নেই। তবে যেহেতু মহিলাদের শরীরের গঠন পুরুষদের থেকে অনেক আলাদা তাই ক্ষতির পরিমাণটাও অনেক বেশি। এবং রোগও ধরে যায় চটজলদি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।