
শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে কুণাল ঘোষ
শেষ আপডেট: 26 April 2025 19:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শারীর শিক্ষা এবং কর্মশিক্ষার বিষয়ে অতিরিক্ত শূন্যপদ মামলায় (Super Numeric Post) প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) মৌখিক নয়, লিখিতভাবে তথ্য চেয়েছে। অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরির যে সিদ্ধান্ত, সেটা কাদের জন্য? এটাই জানতে চান বিচারপতি। হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পরই মামলায় মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যর চেম্বার ঘেরাও করে অবস্থানে বসেন শারীর শিক্ষা এবং কর্মশিক্ষার একাংশ শিক্ষক। শনিবার তাঁদের একাংশকে দেখা গেল কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) সঙ্গে।
রাজ্যের তৈরি সুপার নিউমোরিক পোস্টের দৌলতেই যারা চাকরি পেয়েছিলেন তাঁদের অভিযোগ, বিকাশবাবুর মতো একাংশ আইনজীবী কথায় কথায় আদালতের দ্বারস্থ হয়ে একাংশ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি খেতে উঠে পড়ে লেগেছেন। এরই প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেন তাঁরা। কুণাল এই শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে সিপিএমকে নিশানা করেন।
তৃণমূল নেতার বক্তব্য, ''সিপিএম দ্বিচারিতা করছে। ওদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন কিছু উকিল, যারা এখন বিরোধিতা করছেন। সেই টাকা ওরা ফেরত চান।'' তাঁর এও দাবি, ''মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন চাকরি দিচ্ছেন, কিন্তু সিপিএমের উকিলরা আদালতে তার বিরোধিতা করে জট পাকাচ্ছেন।'' এই মন্তব্য করার পাশাপাশি একাধিক ছবিও দেখান কুণাল। সেখানে দেখা যায়, তাঁদের অবস্থানে রয়েছেন সিপিএমের নেতারা। এছাড়া আইনজীবী ফিরদৌস শামীমের ছবিও দেখান তৃণমূল নেতা।
প্রসঙ্গত, এসএসসি-র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় ছ’হাজার অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্যের শিক্ষা দফতর। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় এবং রাজ্য মন্ত্রিসভারও অনুমোদন ছিল ওই সিদ্ধান্তে। তবে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ওই অতিরিক্ত শূন্যপদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত নয়। এমনকি প্রয়োজনে সেই সিদ্ধান্তে যুক্ত মন্ত্রিসভার সদস্যদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে সিবিআই—এমন নির্দেশও দেয় আদালত। তবে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা গেলে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টের সিবিআই তদন্তের নির্দেশ খারিজ করে দেয়।
এদিকে চেম্বার ঘেরাও নিয়ে বিকাশের প্রতিক্রিয়া ছিল, ''যারা লড়াই করে আইন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে শাসক দল দুর্নীতির পক্ষে যারা আছেন তাঁদের লেলিয়ে দিচ্ছে।'' বিকাশ জানিয়েছেন, তিনি বাড়ি চলে গেছিলেন। তবে জুনিয়ররা চেম্বার থেকে বেরোতে পারছেন না শুনে চলে আসেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, যারা এমন কাজ করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, ''আবার প্রমাণিত হল, এখানে আইন-শৃঙ্খলা, সভ্যতা-ভদ্রতা কিছু নেই।''