দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক মহিলা কনস্টেবল ও তাঁর সঙ্গে মোতায়েন থাকা আর এক পুলিশকর্মীকে দায়ী করে সুইসাইড নোট লিখে আত্মঘাতী হলেন বছর পঁচিশের যুবক। উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরের হরগাঁও থানা এলাকার এই ঘটনায় ওই নোটে আত্মঘাতী যুবক দাবি করেছেন, তাঁকে মারাত্মক অপমান করেছেন ওই দুই পুলিশ। তিনি লজ্জায় নিজেকে শেষ করে দিচ্ছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বুধবার প্রভাস তিওয়ারি নামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, এলাকার স্থানীয় বাজারের মধ্যে মহিলা কনস্টেবলকে কটূক্তি করেন তিনি। তখনই অভিযুক্ত যুবককে থাপ্পড় মারেন ওই মহিলা কনস্টেবল। এমনকি সে সময়ে তাঁর সঙ্গে মোতায়েন আর এক পুলিশকর্মীও প্রভাসকে মারধর করে উচিত শিক্ষা দেন।
আত্মঘাতী প্রভাসের পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনায় অপমানিত ও লাঞ্ছিত হন তিনি। প্রচণ্ড লজ্জিত হন প্রকাশ্যে অমন অপমানে। এখানেই শেষ নয়, এর পরে ফের থানায় তুলে এনে প্রভাসকে আরও একদফা মারধর করা হয়, একদিন লকআপেও রাখা হয়। পরিবার দাবি করেছে, লঘু পাপে গুরু দণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁদের ছেলেকে। সহ্য করতে না পেরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
এই ঘটনার পরে যুবকের আত্মহত্যায় দুই পুলিশকর্মীর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে প্রভাসের দেহ।
প্রভাসকে চড় মারা ওই মহিলা কনস্টেবলের পাল্টা অভিযোগ, তিনি যখন ডিউটিতে ছিলেন, তখন বাজারের মাঝে প্রকাশ্যে তাঁর উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন ওই যুবক। এর পরেই তাঁকে চড় মারা হয় সঙ্গত কারণেই।
হরগাঁও থানার পুলিশ জানিয়েছে, কনস্টেবলের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রভাস তিওয়ারি নামের ওই যুবককে একদিন থানায় আটকে রেখে পরের দিনই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সুইসাইড নোটে প্রভাস অবশ্য লিখেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যে’ হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন ওই মহিলা কনস্টেবল ও তাঁর সঙ্গী পুলিশকর্মী। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, তিনি বুধবার বন্ধুর বাইকের পিছনে চেপে যাচ্ছিলেন। সে সময়ে বাজারেই পরিচিত একজনকে তিনি বলেন তাঁকে লিফ্ট দেওয়ার কথা। পাশেই ছিলেন ওই মহিলা কনস্টেবল, তিনি ভাবেন তাঁর উদ্দেশে অশালীন আচরণ করা হচ্ছে। এর পরেই তাঁর কোনও কথাই না শুনে চড় মেরে বসেন ওই মহিলা পুলিশ, তাঁর সঙ্গে থাকা আর এক পুলিশও তাঁকে ও তাঁর বন্ধুকে প্রবল মারধর করেন প্রকাশ্যে। এর পর থানাতে তুলে এনেও আবার মারধর করা হয়েছে।
সুইসাইড নোটে একথা লিখে তিনি দাবি করেন, মিথ্যে অভিযোগে তাঁকে অপমান করা হয় সবার সামনে। জীবনে কখনও এত লজ্জিত হননি তিনি। এর পরেই শুক্রবার রাতে বিষ খান তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পতে মৃত্যু হয় তাঁর।