
শেষ আপডেট: 27 September 2022 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পোল্যান্ডের এক গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিকরা খননকার্য চালাতে গিয়ে সম্প্রতি সপ্তদশ শতকের এক কঙ্কাল আবিষ্কার করেন। কঙ্কালটির পায়ে শিকল জড়ানো ছিল, যার একপ্রান্ত আবার তালা দিয়ে বাঁধা। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার, অজ্ঞাতপরিচয় ওই কঙ্কালের পাশেই পাওয়া যায় একটা প্রাচীন আমলের কাস্তে। স্বভাবতই ঐতিহাসিকদের কৌতূহল উশকে দেয় এই আবিষ্কার। (Skeleton of Poland)

কঙ্কালটি পরীক্ষানিরীক্ষা করে গবেষকেরা বলেন, এই কঙ্কালটি ছিল একজন মহিলার। তার সামনে কাস্তে এবং পায়ে শিকল দেখে ধারণা করা হয়, এই মহিলাকে হয়তো ডাইনি বা ভ্যাম্পায়ার সন্দেহে খুন করা হয়েছিল (Skeleton of Poland)। সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতাব্দীতে ডাইনি সন্দেহে হত্যা করার প্রবণতা ভয়ংকররকম বেড়ে গেছিল পশ্চিমের দেশগুলোতে। ফ্রান্সের অগ্নিকন্যা 'জোন অব আর্ক'-এর পরিণতি তার রক্তাক্ত প্রমাণ। ইউরোপের ইতিহাসের এই সময়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গল্প। মুখে মুখে ছড়িয়েছে ভুলে ভরা নানান গুজব। উদাহরণ স্বরূপ ড্যান ব্রাউনের 'দ্য ভিঞ্চি কোড' বইটির কথা বলা যেতেই পারে। এই বইয়ের সাক্ষ্য অনুযায়ী “ডাইনি অভিযোগে চার্চ কমপক্ষে ৫ মিলিয়ন নারীকে পুড়িয়ে মেরেছিল।” ঐতিহাসিকেরা বলেন সংখ্যাটা অতো না হলেও নেহাৎ কমও নয়।
১৪৮২ থেকে ১৭৮২ পর্যন্ত গোটা ইউরোপে ১০০,০০০ এর মতো মানুষকে ডাইনিবিদ্যা চর্চার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। যাদের মধ্যে ৪০-৫০ হাজার মানুষকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। যেকোনও দুর্ঘটনার পর কোনও একটি নারীকে ডাইনি বলে অভিযুক্ত করা এবং নৃশংসভাবে হত্যা করা তখনকার সংস্কৃতির একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
গবেষক অধ্যাপক দারিউস পলিন্সকি অজ্ঞাতপরিচয় কঙ্কালটি পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, যে কঙ্কাল পাওয়া গেছে তার সামনের দাঁত সামান্য উঁচু। অধ্যাপকের কথায়, হতে পারে, ওই খুঁতটুকুর জন্যই তাকে ভ্যাম্পায়ার সন্দেহে হত্যা করা হয় (Skeleton of Poland)। যাদের এইভাবে ডাইনি বলে দাগিয়ে খুন করা হতো তাদের কখনও পা ভেঙে দেওয়া হত। কখনও মাথার খুলিতে রড ঢুকিয়ে দেওয়া হত। নির্মম যন্ত্রণা দিয়ে সবশেষে গলায় কাস্তে গেঁথে দিয়ে পায়ে শেকল বেঁধে তালা দিয়ে দিত। এরকম একটা ধারণা ছিল যে এইভাবে বেঁধে রাখলে আর তারা ফিরে আসতে পারবে না। প্রাপ্ত তালা আর কাস্তে সেই সময়ের কুসংস্কারেরই ‘চিহ্ন’।
কল্পকথা অনুসারে, ভ্যাম্পায়াররা জীবত মানুষের রক্ত খেয়ে নিজের আয়ু বাড়াত। সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতাব্দীতে পূর্ব ইউরোপে ভ্যাম্পায়ারের ভয় কার্যত হিস্টিরিয়ার আকার নেয়। সেই সময়কার ডাইনি ভীতি সম্পর্কে এই কঙ্কাল থেকে বেশ কিছু সূত্র মিলতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকরা।