
সামশেরগঞ্জ
শেষ আপডেট: 14 April 2025 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: ৪৮ ঘণ্টা পর সোমবার থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে সুতি ও সামশেরগঞ্জের পরিস্থিতি। জানালেন রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার।
সোমবার সামশেরগঞ্জে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার জানিয়েছেন, সুতি ও সামশেরগঞ্জের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। নতুন করে আর কোথাও কোনও অশান্তি হয়নি। হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে নতুন করে ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, "ধুলিয়ান থেকে বৈষ্ণবনগরের দিকে চলে যাওয়া ঘরছাড়া ১৯ জন ইতিমধ্যেই ফিরে এসেছেন। আরও ১০০ জনকে ফেরানোর তোড়জোড় চলছে। তাঁরা যাতে ঘরে ফিরে কোনও সমস্যার মুখে না পড়েন তার জন্য সতর্ক রয়েছে পুলিশ। বিএসএফ- পুলিশ যৌথভাবে টহলদারি চালাচ্ছে বিভিন্ন জায়গাতে।" গুজবে কান না দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন এডিজি দক্ষিণবঙ্গ।
ওয়াকফ সংশোধনী আইন প্রত্যাহারের দাবিতে শুক্রবার বিকেল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ। জঙ্গিপুরের ঘটনার পর ১৬৩ ধারা অমান্য করে প্রতিবাদে নামে স্থানীয়রা। তারা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করলে পুলিশের বাধায় অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান ডাকবাংলো ও রতনপুর এলাকায় পরিস্থিতি সব থেকে খারাপ হয়। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় ট্রাফিক পুলিশের অফিস। জ্বালানো হয় সরকারি-বেসরকারি বাস। বাদ যায়নি অ্যাম্বুল্যান্সও। অভিযোগ, হামলা চালানো হয় স্থানীয় বিধায়ক মনিরুল ইসলাম, সাংসদ খলিরুল রহমানের বাড়িতেও। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি চলে। অভিযোগ বোমাবাজিরও। আক্রান্ত হন ফরাক্কার এসডিপিও।
মৃত্যু হয় তিনজনের। জখম হন বেশ কয়েকজন। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয় বিএসএফ। অবশেষে সোমবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে রাজ্য পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।