দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার মৌখালি এলাকার বাসিন্দা রেশমি কর্মসূত্রে ক্যানিং থানার পুলিশ কোয়ার্টারে থাকতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ডিউটি শেষ করে তিনি থানার পিছনের কোয়ার্টারে যান। তার পর আর থানায় ফেরেননি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 December 2025 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানিং থানার (Canning Police Station) মহিলা হোমগার্ডের (Woman Homeguard) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের ভার নিল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের তরফে গঠিত ছয় সদস্যের ওই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ (Baruipur Police Super) সুপার রূপান্তর সেনগুপ্ত। একই সঙ্গে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যানিং থানার সাব-ইনস্পেক্টর (Sub Inspector) সায়ন ভট্টাচার্য বর্তমানে পলাতক।
মৃত হোমগার্ড গুলজান পারভিন মোল্লা ওরফে রেশমির (Parveen Molla Aka Reshmi) দেহ উদ্ধার হয় ক্যানিং থানার পুলিশ কোয়ার্টার থেকে। এই ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি খুনের অভিযোগ তোলা হয় থানারই ওই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে।
রেশমির পরিবারের কাছে এই মৃত্যু আরও গভীর ক্ষত হয়ে এসেছে। দু’বছর আগে পঞ্চায়েত ভোটের (Panchayet Election) সময় ভাঙড়ে খুন হন তাঁর বাবা রশিদ মোল্লা। সেই ঘটনার পর বিধায়ক শওকত মোল্লার (Soakat Molla) উদ্যোগে পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে রেশমিকে হোমগার্ডের চাকরি দেয় রাজ্য। বাবার মৃত্যুর ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই মেয়ের রহস্যমৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে পরিবার।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার মৌখালি এলাকার বাসিন্দা রেশমি কর্মসূত্রে ক্যানিং থানার পুলিশ কোয়ার্টারে থাকতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ডিউটি শেষ করে তিনি থানার পিছনের কোয়ার্টারে যান। তার পর আর থানায় ফেরেননি।
পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করেও রেশমির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে তাঁর বোন রুকসানা খাতুন কোয়ার্টারে গিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকে দেখেন, ওড়না গলায় পেঁচানো অবস্থায় সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে দিদির দেহ। তাঁর চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ক্যানিং থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।
মৃতার পরিবারের স্পষ্ট দাবি, রেশমি আত্মহত্যা করতে পারেন না। মৃতার কাকার অভিযোগ, ক্যানিং থানার এক সাব-ইনস্পেক্টরের সঙ্গে রেশমির প্রেমঘটিত সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসতেই তাঁকে খুন করে আত্মহত্যার রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এই অভিযোগের পর থেকেই অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর কোনও খোঁজ মিলছে না। পুলিশ এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারেনি এটি খুন না আত্মহত্যা। জেলা পুলিশের বক্তব্য, সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিট-তদন্ত সম্পূর্ণ হলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।