
শেষ আপডেট: 19 September 2021 17:37
কারও চোখে বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন, কারো বা ইঞ্জিনিয়ার, কেউ আবার পরিবারিক শিল্পকর্মেই নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চায়। তবে রক্তে যে শিল্পের নেশা। সেই নেশাই রবিবার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠল এক একটা সাদা কাগজে। পাতায় ভরে গেল গাছপালা, বাড়িঘর, পশুপাখির ছবিতে। রঙিন পেন্সিলের এক একটা রেখায় জীবন্ত হয়ে উঠছে এক একটি ছবি। সাদা পাতার ক্যানভাসে আঁকা হচ্ছে সেইসব।
এই প্রতিভার খোঁজেই ছিল 'পুরনো কলকাতার গল্প'। এঁদের ফেসবুকের দেওয়ালেই উঠে আসে জীবন্ত কলকাতা। তাঁদেরই প্রচেষ্টায় এদিন কুমোরটুলির অন্দরে মেতে উঠল কৈশোর জীবন। উত্তর কলকাতার রবীন্দ্র সরণির এই পাড়ায় থাকা এক একটি পরিবার যেন এক একটি শিল্পীর জন্মস্থান। তাঁদেরই ভবিষ্যৎদের প্রতিভাকে টেনে আনার উদ্যোগ নিলেন পুরনো কলকাতার গল্প সোসাইটির স্বর্ণালী চট্টোপাধ্যায় ও জয়ন্ত সেনরা।
আরও পড়ুন: উল্টোডাঙায় অটো রিকশয় চলছিল মদের করবার, ধৃত ৫
কলকাতার আনাচে কানাচে গজিয়ে থাকা ঐতিহ্যকে তুলে ধরা যাঁদের কাজ, তাঁদেরই উদ্যোগে শোভাবাজারের মৃৎশিল্পীদের আঁতুরঘরে রবিবার অনুষ্ঠিত হল এক 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা'। এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রতিভাকে উন্মোচিত করেছিল ৭৫টি পরিবারের বাচ্চারা। দীর্ঘদিন ঘর বন্দি বাচ্চাদের মনে থাকা শিল্প কাগজের পাতায় ফুটে উঠল এদিন। এই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে 'পুরনো কলকাতার গল্প'-র পাশে ছিলেন কুমোরটুলির বিখ্যাত মহিলা প্রতিমা শিল্পী মালা পাল। উদ্যোগ নিয়েছিল কুমোরটুলি মৃৎশিল্প সমিতি এবং কুমোরটুলি মৃৎশিল্প সাংস্কৃতিক সমিতিও।
প্রতিভা উন্মোচনের এই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়, সুব্রত ঘোষ, সোমনাথ চক্রবর্তী, সুলেখা বসু, মেধা বসু, ঋতিক কুণ্ডু, বিপাশা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভ্র মুখোপাধ্যায়, উমাশঙ্কর দত্ত, খুশি দাস, সঞ্জয় বাগ, গৌতম পালরা। তাঁদের উজ্জ্বল উপস্থিতিতেই এদিনের সাদা ক্যানভাসে রঙের খেলা ঘটেছে।
বাচ্চাদের কলকাকলীতে ভরে ওঠে কুমোরটুলি পার্কের আনাচে কানাচে। কুমোরটুলির আগামী প্রজন্মের রঙ তুলিতে জীবন্ত হয়ে ওঠে খালি ক্যানভাসগুলি। এই অনুষ্ঠানকে অন্য আঙ্গিকে নিয়ে যান শিল্পী সুস্মিতা পাল, শিল্পী মৌমনী রুদ্র পাল, শিল্পী সুজাতা পাল ও শিল্পী মালা পালের একনিষ্ঠ সহযোগিতা। সবমিলিয়ে শহরের কুমোর পাড়ায় রবিবার কাটল এক অন্য মেজাজে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'