সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর থেকেই একাধিক জেলায় জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা (DEO/জেলাশাসকরা) শুনানির সময়ে মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করে নথি হিসেবে জমা নেওয়া শুরু করেছেন।

শেষ আপডেট: 23 January 2026 10:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় মাধ্যমিক (ক্লাস ১০) অ্যাডমিট কার্ড ( SIR Madhyamik Admit Card) গ্রহণযোগ্য কি না—এই প্রশ্নে ফের দোলাচল তৈরি হয়েছে। যদিও সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, শুনানির সময়ে প্রার্থীর জন্মতারিখ উল্লেখ থাকা মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড মাধ্যমিক পাশ সার্টিফিকেটের পাশাপাশি জমা দেওয়া যেতে পারে, তবুও সেই নির্দেশের পরেও বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি কাটেনি বলে দাবি কমিশন সূত্রের।
সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরের একাংশ আধিকারিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছে—মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড শুধুমাত্র জন্মতারিখ প্রমাণ করবে। কিন্তু নাগরিকত্ব বা পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কমিশনের নির্ধারিত ১২টি নথির তালিকা থেকে অন্তত একটি নথি জমা দেওয়া আবশ্যক। সেই নথি হিসেবে মাধ্যমিক পাশ সার্টিফিকেটও ( SIR Madhyamik Certificate) গ্রহণযোগ্য।
অর্থাৎ কমিশনের একাংশের ব্যাখ্যায়, শুধুমাত্র মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ যথেষ্ট নয়।
তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর থেকেই একাধিক জেলায় জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা (DEO/জেলাশাসকরা) শুনানির সময়ে মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করে নথি হিসেবে জমা নেওয়া শুরু করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে নবান্নের ভূমিকা ঘিরেও চর্চা তুঙ্গে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নবান্নে এক বৈঠকে ডিএম তথা ডিইওদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে—SIR প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee) বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নেন বলে সূত্রের দাবি।
শুধু তাই নয়, ওই বৈঠকেই রাজ্যের মুখ্যসচিব ইঙ্গিত দেন—নির্বাচন কমিশন যদি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হয়, তাহলে রাজ্য সরকার আদালত অবমাননার মামলা করতে পারে।
এর পাশাপাশি কমিশন সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, এতদিন যাঁরা শুনানিতে কমিশনের অনুমোদিত তালিকায় না থাকা নথি—যেমন রেশন কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুক, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের শংসাপত্র—জমা দিয়েছেন, তাঁদের আবেদন ‘রিজেক্ট’ বলে গণ্য হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে কি নির্বাচন কমিশন শীঘ্রই কোনও স্পষ্ট ও একরকম নির্দেশিকা জারি করবে? নাকি এই বিতর্ক ফের গড়াবে সুপ্রিম কোর্টের দরবারে?
সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজরদারির মধ্যেই এখন নজর গোটা প্রশাসনিক মহলের—SIR ঘিরে এই আইনি ও প্রশাসনিক টানাপড়েন শেষ পর্যন্ত কোন পথে গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।
‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ ও ‘আনম্যাপড’ ভোটার তালিকা প্রকাশ
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে শনিবার ২৪ জানুয়ারির ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ (Logical discrepancy) ও ‘আনম্যাপড’ ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস, তালুক ও শহরের ওয়ার্ড অফিস-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই তালিকা টাঙাতে হবে। যাতে ভোটাররা সহজেই জানতে পারেন তাঁদের নাম কোনও সমস্যার তালিকায় রয়েছে কি না।
যাঁদের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তাঁরা নিজেরা অথবা তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে ডকুমেন্ট ও আপত্তি জমা দিতে পারবেন। সেই প্রতিনিধি চাইলে বুথ লেভেল এজেন্টও (BLA) হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভোটারের সই বা টিপসই দিয়ে অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্র এলাকার কাছাকাছি কোনও পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস বা ওয়ার্ড অফিস নির্দিষ্ট করে দিতে হবে, যেখানে নথি জমা ও শুনানি হবে। তালিকা প্রকাশের পর অতিরিক্ত ১০ দিন সময় দেওয়া হবে নথি জমা দেওয়ার জন্য।
এই নথি জমার সঙ্গেই প্রতিটি ক্ষেত্রে ইআরও বা এইআরও-দের মাধ্যমে শুনানি বাধ্যতামূলক। সেই শুনানি সরাসরি অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হতে পারে। নথি গ্রহণ ও শুনানির সার্টিফিকেট দিতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে, যা পরে বিএলও অ্যাপে আপলোড করা হবে।