সূত্রের খবর, এসআইআর চালুর আগে দালালদের মাধ্যমে সীমান্ত পেরোতে খরচ পড়ত ৮-১০ হাজার টাকা। এখন সেই অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭-২০ হাজারে।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 7 November 2025 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার সীমান্তে এক নতুন সমীকরণ। SIR প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই নাকি দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে লাগাম পড়েছে, বেড়েছে টহল। ফলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ এখন আগের মতো সহজ নয়। বরং, সীমান্তের ওপার থেকে অনেকেই এখন দেশে ফিরে যাওয়ার কথাই ভাবছেন।
বনগাঁ, বসিরহাট, হাড়োয়া— সর্বত্র একই ছবি। আগে যেভাবে রাতের অন্ধকারে নদী বা জঙ্গল পেরিয়ে অনায়াসে ঢুকে পড়তেন অনুপ্রবেশকারীরা, এখন তাতে এসেছে বাধা। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি এক বাংলাদেশি নারী যিনি পাওনা টাকা আদায়ের জন্য ভারতে ঢুকেছিলেন, তিনি এসআইআর চালুর খবর পেয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সূত্রের খবর, এসআইআর চালুর আগে দালালদের মাধ্যমে সীমান্ত পেরোতে খরচ পড়ত ৮-১০ হাজার টাকা। এখন সেই অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭-২০ হাজারে। টহলদারি, নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় দালালদের ঝুঁকিও বাড়ছে— তাই তারা 'সেফ করিডর' এর জন্য বাড়তি পারিশ্রমিক দাবি করছে।
দালাল গোষ্ঠীর এক সদস্য বলেন, “আগে যেভাবে রাতেই পার করিয়ে দিতাম, এখন দিনে-রাতে দু’বার টহল হয়। বিএসএফ, পুলিশ, ড্রোন—সব দিকেই নজর।”
অনুপ্রবেশকারীদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে ভয়। কেউ কেউ ভাবছেন দেশে ফিরে যাওয়াই এখন নিরাপদ। বনগাঁ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিগত কয়েক দিনে এমন বহু উদাহরণ পাওয়া গেছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “আগে ওপার থেকে আসা লোকজনের ভিড় দেখা যেত, এখন উল্টে অনেককে দেখা যাচ্ছে ফিরে যেতে। ওরা ভাবে, এবার ধরা পড়লে ছাড় নেই।”
প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, এসআইআর চালুর ফলে অনুপ্রবেশ সাময়িকভাবে কমলেও পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ দালালচক্র এখন নতুন রুট ও নতুন পদ্ধতি খুঁজে নিচ্ছে।