
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 April 2025 15:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চড়ক পুজোর সন্ন্যাসীদের উপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে শিলিগুড়ি শহরের চার নম্বর ওয়ার্ড। রবিবার ফের দুই চড়ক সন্ন্যাসী আক্রান্ত হওয়ার খবরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রবল সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। চলে ইটবৃষ্টি, বেপরোয়া ভাঙচুর, লুঠপাট। ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত দুই পুলিশকর্মী। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী ও র্যাফ।
এর আগেও গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত ছিল শিলিগুড়ির কিছু অঞ্চল। সূত্রের খবর, গত দুদিনে দুটি পৃথক ঘটনায় দুই চড়ক পুণ্যার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। প্রথম দফায় হামলার পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও রবিবার ফের উত্তেজনা চরমে ওঠে। অভিযোগ, নতুন করে আরও দুই চড়ক সন্ন্যাসী আক্রান্ত হন। এরপরই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, কয়েকশো মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। চলে ব্যাপক হাতাহাতি, একে অপরের দিকে ছোড়া হয় ইট-পাথর। এর মাঝেই একাধিক দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে চালানো হয় বেপরোয়া ভাঙচুর। বেশ কিছু জায়গায় লুঠপাটের অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছেও হেনস্থার শিকার হন পুলিশকর্মীরা। শিলিগুড়ি পুলিশ বিভাগের এক আধিকারিক জানান, ‘ইট ছোড়াছুড়ি চলছিল। খবর পেয়েই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। তবে একটা গুজবকে ঘিরেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সকলকে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে, কোনও রকম গুজবে কান দেবেন না।’
ঘটনার পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাফ মোতায়েন করা হয়। আপাতত গোটা এলাকায় টহল দিচ্ছে বিশাল বাহিনী। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যাতে আর কোনও উত্তেজনা না ছড়ায়, সেই বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। তবে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
চড়ক পুজো উপলক্ষে সন্ন্যাসীরা বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করেন এবং বিভিন্ন রীতিতে অংশ নেন। স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে এই উৎসব নিয়ে আবেগ ও ভক্তি গভীরভাবে জড়িয়ে। ফলে এই ধরনের সহিংসতা ও ধর্মীয় পটভূমিতে সংঘর্ষ প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের কাছেই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।