
শেষ আপডেট: 1 September 2022 06:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেশ কিছুদিন ধরেই শিখ (Sikhs) ধর্মের নেতারা অভিযোগ করে আসছিলেন পাঞ্জাবে জোর করে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত (Christianized) করা হচ্ছে লোককে। মূলত শিখ ধর্মাবলম্বীদের টার্গেট করেছে বিভিন্ন খ্রিস্টান মিশনারি সংগঠন।
এই পরিস্থিতিতে ধর্মান্তকরণ প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন স্বর্ণ মন্দিরের (Golden Temple) প্রধান গ্রন্থী তথা অকাল তখতের বর্তমান জাঠেদার হরপ্রীত সিং। ৫ সেপ্টেম্বর সেপ্টেম্বর আনন্দপুর সাহিবে শিখ সম্প্রদায়ের একটি সমাবেশের ডাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, শিখ সম্প্রদায়কে পাঞ্জাবে ধর্মান্তকরণ বিরোধী আইন প্রণয়নের বিষয়টি এখন গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনই পাঞ্জাবে ধর্মান্তর বিরোধী আইনের দাবি করিনি। আমরা এটা চাইনি। কিন্তু এখন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে, আমাদের সেই দাবি তোলার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। শিখদের এই আইনের দাবি করার বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে, যা আমরা এতদিন চাইনি।’
সভাপতি নির্বাচনের ঘণ্টা বাজতেই কারচুপির অভিযোগ কংগ্রেসে, ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবিতে সরব জি-২৩
কিছুদিন ধরে, কিছু তথাকথিত খ্রিস্টান মিশনারী অলৌকিক চিকিৎসা এবং প্রতারণামূলক পদ্ধতি অবলম্বন করে শিখদের জোর করে ধর্মান্তরিত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিখ ও হিন্দুদেরকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হতে। অভিযোগ, সবই ঘটছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। যদিও ভারতের আইনে ধর্মের নামে কুসংস্কার ছড়ানোর অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে। কিন্তু ভোট-ব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে কোনও সরকার ব্যবস্থা নেয় না, অভিযোগ প্রধান শিখ ধর্মগুরুর।
তিনি জানান, মাস ছয়েক ধরে শিখ সংগঠনগুলি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকেরা সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ম্যাজিককে অলৌকিক শক্তি বলে প্রচার করে ধর্মান্তরে রাজি করাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। হরপ্রীত সিং বলেন, শিখরা কোন ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু ধর্মের নামে প্রতারণার বিরুদ্ধে।
তাঁর কথায়, আমরা আমাদের নিজস্ব ধর্মেও অলৌকিক চিকিৎসার বিরুদ্ধে। বাইবেলও এই ধরনের লোকদের নিন্দা করে।কিন্তু এখানে শিখদের প্রলুব্ধ করার জন্য এই ধরনের কুসংস্কার ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি দাবি করেছেন পিছিয়ে থাকা দরিদ্র শিখ এবং হিন্দুদের ‘বিদেশী শক্তির’ টাকায় মিশনারিরা টার্গেট করেছে। পাঞ্জাব একটি সীমান্ত রাজ্য। বিদেশি শক্তির মদদে যদি কোনও সীমান্ত রাজ্যে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের মতো ঘটনা ঘটতে থাকে, তা উদ্বেগজনক। এটা আর বরদাস্ত করা হবে না।’
সূত্রের খবর, হরপ্রীত সিংয়ের মুখ খোলার পিছনে আছে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা। দিন কয়েক আগে চার মুখোশধারী ব্যক্তি তরন তারন জেলার একটি গির্জার প্রাঙ্গনে মূর্তি ভাঙচুর করেছিল। গত রবিবার অমৃতসরে একটি খ্রিস্টান ধর্মসভায় বিরক্ত করার অভিযোগে পুলিশ শিখ সম্প্রদায়ের দেড়শো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে। স্বর্ণ মন্দিরের এই প্রধান গ্রন্থী পুলিশকে এফআইআর বাতিল এবং ধৃতকে মুক্তি দেওয়ার দাবি তোলেন। কিন্তু প্রশাসন তাঁর কথা কানে তোলেনি।
তবে শিখ সংগঠনগুলির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন। ন্যাশনাল কমিশন ফর মাইনরিটিজ বিষয়টি নিয়ে গত ১৬ জুন শিখ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে। কমিশন পাঞ্জাব সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে।