দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাগাতার ২৪ ঘণ্টা ধরে রীতিমতো তোলপাড় হয়েছে লাহৌরের নানকানা সাহিব এলাকা। উত্তেজনার ঝড় পাকিস্তানের সীমানা পেরিয়ে ঢুকে পড়েছিল ভারতেও। অবশেষে সাময়িক স্বস্তি মিলল। বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হল অপহৃত শিখ তরুণীকে। যাঁকে তুলে নিয়ে নিয়ে ধর্মান্তরণ করিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছিল মুসলিম যুবকে এহসানের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে এহসান ও তার পরিবারের সদস্য মিলিয়ে মোট ৮ জনকে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমারের কথায়, ‘‘পাকিস্তানে শিখ তরুণীকে অপহরণ ও ধর্মান্তরণের ব্যাপারে পাক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অপহরণের রিপোর্টও পেশ করা হয়েছে। জোর করে ধর্মান্তরণের প্রক্রিয়া আগেও বহুবার হয়েছে। নিশানায় ছিল শিখ ও হিন্দু কিশোরীরা। অবিলম্বে এই প্রথা বন্ধ হওয়া উচিত। এই ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাকিস্তানের সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।’’
তাম্বু সাহিব গুরুদ্বারের গ্রন্থি (পুরোহিত) ভগবান সিংয়ের মেয়ে জগজিৎ কৌরকে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছিল এহসান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। শিখ পরিবারের দাবি ছিল, তাঁদের মেয়ের বয়স ১৭ বছর। নাবালিকা মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ইসলামে ধর্মান্তিরত করা হয়। তার উপর অত্যাচারও চালায় এহসান ও তার ভাইয়েরা। এর পর জগজিতের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করে এহসান। অপহরণ ও ধর্মান্তরণের অভিযোগ তুলে শিখ পরিবারের পোস্ট করা ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। গোটা নাননাকা সাহিব এলাকা জুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ।
https://twitter.com/mssirsa/status/1167116870144552960?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1167116870144552960&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.four.suk.1wp.in%2Fnews-international-sikh-girl-forcibly-converted-to-islam-made-to-marry-muslim-in-pakistan%2F
এর মধ্যেই জগজিৎ ও এহসানের একটি ভিডিয়ো ও ছবি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। যাতে দেখা যায়, কালো পোশাক পরে মুসলিম যুবকের পাশে বসে রয়েছেন জগজিৎ। এমনকি, তিনি নিজেকে ১৯ বছর বয়সি বলে দাবি করে স্বেচ্ছায় এহসানকে বিয়ে করার কথাও বলছেন। এই ভিডিয়ো সামনে আসার পরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। শিখ পরিবার দাবি করে, প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে এই সব বলতে বাধ্য করা হচ্ছে। পাকিস্তান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে শুরু হয় ধর্না-বিক্ষোভ।
ঘটনার খবর ছড়াতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভারতের শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজনও। দিল্লির শিখ গুরুদ্বার ম্যানেজমেন্ট কমিটির প্রেসিডেন্ট ও অকালি দলের নেতা মনজিনদার সিং সিরসা টুইট করে জানান, ভারত ও পাকিস্তান দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছেই আবেদন করা হয়েছে। শিখ স্বাধীনতায় এ ভাবে হস্তক্ষেপ হতে থাকলে বিষয়টা রাষ্ট্রপুঞ্জ অবধি নিয়ে যাওয়া হবে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে টুইট করেন হরভজন সিংও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও অকালি দলের নেতা হর্ষিমরাত কৌর বাদল বলেছেন, ‘‘অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা। গোটা বিশ্বের কাছে জানানো উচিত, পাকিস্তান কী ভাবে কিশোরীদের উপর বর্বরোচিত আচরণ করছে।’’