
শেষ আপডেট: 18 November 2022 08:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর দুয়েক আগে একবার মুম্বইয়ের হাসপাতালে ভর্তি (Hospitalised In 2020) হতে হয়েছিল শ্রদ্ধা ওয়াকারকে (Shraddha Walker)। সে সময়ে তার সারা মুখে ছিল কালশিটের (Bruises) দাগ। তদন্তে এমনটাই জেনেছে পুলিশ। অনুমান, গৃহহিংসার শিকার হয়েই এই অবস্থা হয়েছিল তাঁর। চিকিৎসকরাও জানিয়েছেন তেমনটাই।
জানা যাচ্ছে, ঘটনাটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের। শ্রদ্ধা তখন কল সেন্টারে কাজ করতেন, আফতাবও সেখানেই কাজ করত। তখন থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সে সময়ে শ্রদ্ধার বয়স ছিল ২৪ বছর। মুম্বইয়ের কাছে ভাসাই এলাকার ওজোন মাল্টিস্পেশ্যালিটি হাসপাতালে তিন দিনের জন্য ভর্তি হন তিনি। সে সময়ে শ্রদ্ধার মুখে যে কালশিটের দাগ, তার একটি ছবিও সামনে এসেছে আজ, শুক্রবার।
পুলিশ জানিয়েছে, কতটা 'টক্সিক' সম্পর্কে ছিলেন শ্রদ্ধা, এই ঘটনাটি একটি বড় প্রমাণ। হাজারো হিংসার শেষে সম্পর্কটি শেষ হয়েছে নৃশংস খুনে!
ওজোন মাল্টিস্পেশ্যালিটি হসপিটালের যে ডাক্তারবাবু শ্রদ্ধার চিকিৎসা করেছিলেন, সেই ডক্টর শিবপ্রসাদ শিন্ডে জানিয়েছেন, পিঠে ভয়ানক ব্যথা, মুখে কালশিটে, ট্রমা এবং শরীরের ভিতরে নানা আঘাত নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন শ্রদ্ধা। তিনি বলেন, 'ট্রমার জেরে স্পন্ডিলসিস হয়ে গিয়েছিল শ্রদ্ধার। মার খাওয়ার তেমন চিহ্ন শরীরে খুব বেশি ছিল না। কিন্তু ইন্টারনাল ইনজুরি ছিল বেশ ভালরকম। তিন দিন ভর্তি থাকার পরে ওঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়, কিন্তু আর পরে কখনও চেকআপের জন্য আসেননি শ্রদ্ধা।'
হাসপাতালের রিপোর্ট ঘেঁটে জানা যাচ্ছে, পিঠে তীব্র ব্যথা, বমিভাব, ঘাড়ে প্রবল ব্যথা, পা অসাড় হয়ে যাওয়া-- এই সমস্ত উপসর্গ ছিল শ্রদ্ধার।
শ্রদ্ধার বন্ধুবান্ধবদের জেরা করে পুলিশ ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছে, নিয়মিত গৃহহিংসার শিকার ছিলেন শ্রদ্ধা। খুন হয়ে যাওয়ার কয়েক মাস আগে ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকে মেসেজও করেছিলেন সাহায্য চেয়ে। বলেছিলেন, খুন হয়ে যেতে পারেন।
শ্রদ্ধার কলেজ জীবনের বন্ধু রজত শুক্লার বয়ান সামনে এসেছে ইতিমধ্যেই। তিনি ২০১৫ থেকে চেনেন শ্রদ্ধাকে। রজত বলেন, 'শ্রদ্ধাকে মারধর করা হতো। সেটা ও ওর ছোটবেলার বন্ধু, বেস্ট ফ্রেন্ডকে জানিয়েওছিল। আমাদের বন্ধুবান্ধবরা সবাই সবাইকে চেনে, কথা হয়, তাই আমরা সবাই জানতাম বিষয়টা। কিন্তু তার পরেও শ্রদ্ধা বহুবার সম্পর্ক ভাঙার কথা বললেও, শেষমেশ আফতাবের সঙ্গেই থেকে গিয়েছিল।'
সেই থেকে যাওয়াই কাল হল। শুধু থেকে যাওয়া নয়, আফতাবের সঙ্গে লিভ ইন করার জন্য বাড়ির লোকজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করে ভাসাই থেকে দিল্লি চলে এসেছিল শ্রদ্ধা। মেহরৌলি এলাকায় দু'জনে একসঙ্গে ভাড়া নিয়েছিল ফ্ল্যাট। তার কয়েক দিনের মধ্যেই শ্রদ্ধাকে খুন করে ফেলে আফতাব। তার পরে তার দেহ ৩৫ টুকরো করে কোপায়। শ্রদ্ধার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হয় আফতাব। তাকে জেরা করে ঘটনার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই নতুন তথ্য হাতে পাচ্ছে পুলিশ।
শ্রদ্ধার দেহের পাজেল এখনও মেলেনি! কোথাও কোনও টুকরো পেলে রিপোর্ট করার নির্দেশ সব থানাকে