
শেষ আপডেট: 15 November 2022 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির তরুণী শ্রদ্ধা ওয়াকার খুনের (Shraddha Walker murder) ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে শ্রদ্ধার বাবা ও বন্ধুদের বয়ানে। সম্প্রতি মৃতার বাবা বিকাশ ওয়াকার পুলিশকে জানিয়েছেন, বাড়ির অমতে আফতাবের (Aftab Amin poonawala) সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর পরেই শ্রদ্ধা বাবা-মাকে বলেছিলেন, তাঁকে ভুলে যেতে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ভিনধর্মের ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়েতে রাজি ছিলেন না তাঁরা। ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে কিছুতেই রাজি হননি বিকাশ ওয়াকার ও তাঁর স্ত্রী। এরপরেই বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে প্রেমিকের সঙ্গে দিল্লিতে (Delhi) লিভ ইন করতে শুরু করেন মহারাষ্ট্রের পালঘরের মেয়ে শ্রদ্ধা। তিনি জানিয়েছেন, মেয়ে স্পষ্টই জানিয়েছিল, 'আমি ২৫ বছর বয়সি একজন স্বাধীনচেতা মেয়ে, নিজের জীবনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমার আছে। আমি আফতাবের সঙ্গেই থাকব। ভুলে যাও, আমি তোমার মেয়ে।'
ঘটনার পরেই বাড়ি ছাড়েন শ্রদ্ধা। বাবা মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন তিনি।
নৃশংস খুনের বিষয়ে জেনে হতবাক শ্রদ্ধার বন্ধুরাও। শ্রদ্ধার এক বন্ধুর রজত শুক্লা জানিয়েছেন, ২০১৮ সাল থেকেই আফতাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল শ্রদ্ধা। বন্ধুদের সে জানিয়েছিল, প্রেমিকের সঙ্গে সুখেই রয়েছে সে। এরপরেই নাকি আচমকা একদিন শ্রদ্ধা দাবি করেন, আফতাব তাঁকে মারধর করে। রজতের দাবি, সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন শ্রদ্ধা। কিন্তু কিছুতেই তা করে উঠতে পারেননি তিনি। 'ওর জীবন নরক হয়ে উঠেছিল,' দাবি রজতের। তিনি আরও জানিয়েছেন, দিল্লিতে লিভ করার সময় শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন, সেখানে গিয়ে কাজ করবেন দুজনে। কিন্তু দিল্লি যাওয়ার পরেই সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় শ্রদ্ধা।
শ্রদ্ধার পালঘরের বন্ধু লক্ষণ নাদির জানিয়েছেন, দু'মাস আগে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল শ্রদ্ধা। গত অগস্ট মাস থেকেই তাঁর কোনও মেসেজের উত্তর দিতেন না শ্রদ্ধা, তাঁর ফোনও বন্ধ থাকত বলেই জানিয়েছেন লক্ষণ। এরপরেই খারাপ কিছু ঘটেছে আঁচ করে পুলিশে খবর দেওয়ার কথা ভাবেন বলে জানিয়েছেন লক্ষণ।
তিনি আরও জানিয়েছেন, শ্রদ্ধা এবং আফতাবের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। শ্রদ্ধা নাকি আফতাবকে ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। এমনকী, একদিন দুজনের মধ্যে অশান্তি এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায়, যে, শ্রদ্ধা লক্ষণকে জানান, আফতাবের সঙ্গে থাকলে ওই রাতেই খুন হয়ে যাবেন তিনি। এরপরেই বন্ধুরা মিলে গিয়ে উদ্ধার করে আনেন শ্রদ্ধাকে। আফতাবকে তাঁরা সাবধান করে আসেন, এরপর এরকম কিছু হলে থানায় খবর দেবেন তাঁরা। কিন্তু আফতাবের প্রতি শ্রদ্ধার ভালবাসার কথা ভেবেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে বিরত ছিলেন তাঁরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বিষয়টি তদন্তের জন্য শ্রদ্ধা এবং আফতাবের এক 'কমন' বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছেন তাঁরা। তবে তিনি লক্ষণই কিনা, তা জানায়নি পুলিশ। ওই বন্ধুর সঙ্গেই শ্রদ্ধার শেষবার কথা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। আফতাবের বয়ানে যা যা অসঙ্গতি পাওয়া যাচ্ছে, সেই সব কিছুর উত্তর তিনিই দিতে পারেন বলে মনে করছে পুলিশ।
আফতাবের পরিবার মহারাষ্ট্রের বাড়ি ছেড়ে চলে যায় ১৫ দিন আগেই! সাহায্য করেছিল সে নিজেই