
শেষ আপডেট: 18 November 2022 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্রদ্ধা ওয়াকার (Shraddha Walkar) হত্যাকাণ্ডে পুলিশের হাতে ফের উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। শ্রদ্ধার হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রাম চ্যাট (Whatsapp Chat) হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। আর তাতে আরও এক বার স্পষ্ট, আফতাবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের রসায়ন।
পুলিশ সূত্রে খবর, দু'বছর আগের চ্যাটেও শ্রদ্ধা বন্ধুবান্ধবদের জানিয়েছিলেন, আফতাব তাঁকে মারধর করেন। মারের চোটে তাঁর গা-হাত-পা এত ব্যথা হয়ে গিয়েছিল যে, তিনি বিছানা ছেড়ে উঠতেও পারছিলেন না এক সময়। এমনকি শ্রদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তিও করতে হয়েছিল।
দু'বছর আগে মুম্বইতে থাকতেন শ্রদ্ধা-আফতাব। তিনি সেখান থেকে বন্ধুদের লিখেছিলেন, "আমি আজ বেরোতে পারব না। কালকের মারধরের জন্য আমার রক্তচাপ কমে গিয়েছে। সারা শরীরে ব্যথা। বিছানা ছেড়ে ওঠার ইচ্ছাই নেই আমার।"

পুলিশ শ্রদ্ধার ছবিও পেয়েছে, যাতে দেখা যাচ্ছে তাঁর মুখে-চোখে মারধরের চিহ্ন। ওই চ্যাট থেকে পুলিশ এ-ও জানতে পেরেছে, অফিস ও অন্যত্র শ্রদ্ধা জানিয়ে রেখেছিলেন, তাঁরা বিবাহিত।
একটি ইনস্টাগ্রাম চ্যাটে দেখা গিয়েছে, এক বন্ধুকে চুলের স্টাইল দেখাচ্ছিলেন শ্রদ্ধা। বন্ধুটির নজরে পড়ে তাঁর মুখের কালশিটে। এর সপ্তাহ খানেক পর শ্রদ্ধা পিঠ ব্যথা, বমি এবং ঘাড়ে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আফতাবের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ নিয়ে এক বার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শ্রদ্ধা। তাঁর এক বন্ধু জানিয়েছেন, তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে থানায় গিয়েছিলেন।পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ধারাবাহিক ভাবে এই সম্পর্কের নানা 'বিষাক্ত' দিক উঠে এসেছে পুলিশের হাতে। যা থেকে এটুকু পরিষ্কার, প্রথম থেকেই শ্রদ্ধা ভাল ছিলেন না।
লিভ-ইন সঙ্গী শ্রদ্ধাকে খুন করে দেহ ৩৫ টুকরো করে কেটেছেন আফতাব। টুকরোগুলি ফ্রিজে রেখে দিয়েছিলেন তিনি। ৬ মাস পর সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, তত নতুন নতুন তথ্য হাতে পাচ্ছে পুলিশ।
শ্রদ্ধার দেহের পাজেল এখনও মেলেনি! কোথাও কোনও টুকরো পেলে রিপোর্ট করার নির্দেশ সব থানাকে