দ্য ওয়াল ব্যুরো : নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন মানুষের ওপরে চাপিয়ে দেবেন না। বরং সবাইকে বুঝিয়ে বলুন, এর সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই। সোমবার নিজের দল বিজেপির উদ্দেশে এমনই আবেদন জানালেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বংশধর চন্দ্র বোস।
তাঁর কথায়, “আমি আমার দলের নেতৃত্বকে পরামর্শ দিয়েছি, নাগরিকত্ব আইনে সামান্য পরিবর্তন করলেই বিরোধীদের বিক্ষোভ বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের নির্দিষ্ট করে বলা উচিত, নিপীড়িত সংখ্যালঘুদের জন্য এই আইন করা হয়েছে। কোনও ধর্মের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত আলাদা।”
পরে তিনি বলেন, “আমাদের কাজ হল মানুষকে বুঝিয়ে বলা, আমরা যা বলছি, তা ঠিক। বিরোধীরা ভুল বলছে। আমাদের উদ্ধত হওয়া উচিত নয়। সংসদে আমাদের অনেক এমপি আছেন বলেই আমরা কাউকে ভয় দেখাতে পারি না। তার চেয়ে আমাদের মানুষকে বুঝিয়ে বলা উচিত, এনআরসি হলে তাঁদের কী লাভ হবে।”
নাম না করেও চন্দ্র বোস আসলে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি দিলীপ ঘোষের কথা বলতে চেয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। দিলীপ ঘোষ বেশ কিছুদিন ধরে এনআরসি ও সিএএ-র সমর্থনে বিতর্কিত মন্তব্য করে চলেছেন। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনায় জনসভায় দিলীপবাবু বলেন, “৫০ লক্ষ মুসলিম অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দরকার হলে তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।”
১ ডিসেম্বর সংসদে নাগরিকত্ব আইন পাশ হয়। তার পরেই দেশ জুড়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে নিপীড়িত হয়ে যাঁরা ভারতে পালিয়ে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এর পরে দেশ জুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। অনেক জায়গায় আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নেয়। উত্তরপ্রদেশে গুলিতে অন্তত ২০ জন মারা যান। পুলিশ অবশ্য বলেছে, মাত্র এক জায়গায় গুলি চালানো হয়েছিল।