দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্ষণ প্রমাণিত হলে যদি মৃত্যুদণ্ডের সাজা মেলে, তবে তা নিয়ে একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করার আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্র। এই আবেদন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বৃহস্পতিবার ধর্ষিতের পক্ষেই মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদে। অপরাধীদের দ্রুত সাজা কার্যকর করার নিদানই দিলেন তিনি।
বোবদের কথায়, “এই ধরনের মামলার ক্ষেত্রে নির্যাতিতার অধিকার সুরক্ষিত করার দিকেই নজর রাখবে সুপ্রিম কোর্ট। দেখতে হবে, যাতে আইনের ফাঁক গলে কোনও ভাবেই রেহাই না পায় অপরাধী। শুধু তাই নয়, আইনকে কোনও ভাবে কাজে লাগিয়ে যাতে তারা বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ না করতে পারে, তাও দেখতে হবে।” সেই সঙ্গেই তিনি জানান, অপরাধী জেলে কেমন আচরণ করেছে, তা দেখেও কারও ফাঁসির সাজা পিছোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। এটা করলে, কারও শাস্তি হবে না। আইন থেকে বেঁচে যাওয়ার হাজারটা পথ খুলে যাবে।
সম্প্রতি নির্ভয়া-মামলার চার অপরাধীর ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালত। ১৭ জানুয়ারি ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। তার পরেই সুপ্রিম কোর্টে ফের একাধিক বার সাজা মকুবের আর্জি জানিয়েছে অপরাধীরা। এক এক বার আর্জি খারিজ হলেও ফের আসছে অন্য কোনও আবেদন। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জিও করে তারা। শেষমেশ ফাঁসির দিনও পিছিয়ে দিয়েছে আদালত। ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টায় তিহাড় জেলে চার জনের ফাঁসি হবে বলে জানা গেছে।
বোবদে জানিয়েছেন, পরিকল্পনা করেই আইনের সাহায্য নিয়ে ফাঁসির তারিখ পিছোনোর চেষ্টা করছে অপরাধীরা। এমনটা যাতে না করা যায়, সে বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি বলে জানান তিনি।
ফাঁসি পিছিয়ে যাওয়া নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন নির্ভয়ার মা আশাদেবীও। ২০১২ সাল থেকে যে জঘন্য অপরাধের শাস্তির দাবিতে তাঁর লড়াই চলছে, আট বছর পরেও কেন তিনি বিচার পাবেন না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর মধ্যে প্রবীণা আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ আশাদেবীকে অনুরোধ করেন ধর্ষকদের ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য। একথা শুনে আরওই ক্ষিপ্ত হন আশাদেবী এবং বহু সাধারণ মানুষ।
শুধু আশাদেবী নন, অনেকেই মনে করছেন, আইনকে কাজে লাগিয়ে নির্ভয়ার ধর্ষকরা বারবার ফাঁসির দিন পিছিয়ে দিচ্ছে। এই প্রবণতা দেশের বিচারব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য কী করা যেতে পারে, তা ঠিক করতেই সুপ্রিম কোর্টে যায় কেন্দ্র। তখনই নিজের মতামত জানান বিচারপতি বোবদে।
তিনি আরও বলেন, “অপরাধী যেন এমনটা মনে না করে, যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় পিছিয়ে দেওয়াটা তার আইনি অধিকার। তাছাড়া সব কিছুর জন্য অনন্তকাল ধরে লড়াই করতে পারেন না কেউ। এমনটা হলে সাধারণ মানুষের কাছে বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে ভুল বার্তা যাবে।”