
শেষ আপডেট: 11 January 2024 07:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানেই ‘পেটকাটি চাঁদিয়াল মোমবাতি বগ্গা, আকাশে ঘুড়ির পাল…।‘ আর এই ঘুড়ির ঝাঁকেই ওত পেতে আছে বিপদ। চিনা মাঞ্জার ব্যবহারের বিধিনিষেধে এখনও সচেতন হয়নি মানুষ। দেদার বিক্রি হচ্ছে এই ধরণের ঘুড়ির সুতো। খবর পেয়ে অভিযানে নামতে হল পুলিশকে।
সুতোয় মাঞ্জা দেওয়ার দিন শেষ, এখন বাজারে চলছে চিনা মাঞ্জা। শ্রীরামপুর শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় চিনা মাঞ্জার দাপটে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি শ্রীরামপুর উড়ালপুলে চিনা মাঞ্জার কারণেই আঙুল কাটা পড়ে এক ব্যক্তির।
বেশ কয়েক বছর ধরে চিনা মাঞ্জার দাপটে বেড়েছে। তাতে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়েছে অনেককে। এই সুতোর ব্যবহার উড়ালপুলগুলিতে তৈরি করেছে মারণ ফাঁদ। বেশ কিছু দুর্ঘটনা হওয়ার পর প্রশাসনের তরফে এই সুতো নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞায় বিশেষ ফল হয়নি। নিষেধ উপেক্ষা করেই চলছে ‘চিনা মাঞ্জা’র বিক্রি ও ব্যবহার।
কয়েকদিন আগে শ্রীরামপুর রেল ওভারব্রিজে কোন্নগরের বাসিন্দা এক বাইক আরোহীর নাক কেটে যায় এই সুতোয়। কয়েকজন ক্রেতা জানান, এই সুতোয় দুর্ঘটনা হয় জেনেও দোকানে বিক্রি হচ্ছে। পথচারী, সাইকেল আরোহীদের বক্তব্য, এই সুতো হাতে-পায়ে জড়িয়ে রক্তাক্ত হচ্ছেন অনেকে। কেউ আবার হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ছেন।
ঘুড়ি ওড়ানোর খেলায় সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ কাটাকুটিতে। আর তার জন্য দরকার হয় কড়া মাঞ্জা সুতোর। তাই চিনা মাঞ্জার (সিন্থেটিক মাঞ্জা দেওয়া নাইলনের সুতো) চাহিদাও বাড়ে। কলকাতা ও তার আশপাশে চিনা মাঞ্জা সুতোর বিক্রিতে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু প্রতি বছরই দেখা যায়, পুলিশের ধরপাকড়, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চুপিচুপি কড়া মাঞ্জার বিক্রি চলছে। গত কয়েকদিন ধরে হুগলির নানা জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। চিনা মাঞ্জা বিক্রি হতে দেখলেই তা বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে।
জেলায় জেলায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটায় ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতীয় পরিবেশ আদালত দেশ জুড়ে চাইনিজ মাঞ্জা নিষিদ্ধ করেছিল। প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে জাতীয় পরিবেশ আদালতের পক্ষ থেকে ওই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে বলে দেওয়া হয়েছিল। পরিবেশ আদালত বলেছিল, ওই ধরনের মাঞ্জা সুতো তৈরি, মজুত ও কেনাবেচা বন্ধ করতে হবে। এই ধরনের সুতো বা মাঞ্জার উপকরণ অন্য দেশ থেকে আমদানি করার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।