দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেনাবাহিনীর পরিবার সত্যিই আলাদা। তাদের সাহস, তাদের ইচ্ছেশক্তি ও মানসিক কাঠিন্য বাকিদের থেকে অনেক বেশি। না হলে কপ্টার ক্র্যাশে পিসি মধুলিকা রাওয়াত ও পিসেমশাই চিফ অব ডিফেন্স বিপিন রাওয়াতকে হারিয়েছেন। তারপরেও তাঁদের ভাইঝি বান্ধবী সিং জাতীয় শুটিংয়ে সবার সেরা হয়েছেন।
মানসিক যন্ত্রনা নিয়েই ভোপালে জাতীয় শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন, আর মোট ১১টি পদক জিতেছেন এই সপ্তদশী। পদক জয়ের সাফল্য আবার উৎসর্গ করেছেন পিসেমশাই প্রয়াত জেনারেল বিপিন রাওয়াতকে। কারণ বান্ধবীর মনে হচ্ছে, পিসেমশাইয়ের শেখানো পথ ধরেই তিনি এই সাফল্য পেলেন।
বান্ধবী বলেছেন, আমাকে পিসেমশাই বলে দিয়েছিলেন, ‘‘কেউ যদি কোনও কাজ হাতে নেয়, তবে সেই কাজটি শেষ না করা পর্যন্ত তার বিশ্রাম নেওয়া উচিত নয়। তাই আমি জাতীয় শুটিংয়ে এসে ওই অঘটনের পরেও নিজের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে যাইনি।’’ বান্ধবী সিংয়ের পিসি হলেন বিপিন রাওয়াতের স্ত্রী মধুলিকা, তিনিও ওইদিন কপ্টার ক্র্যাশে মারা গিয়েছেন।
বান্ধবীর বাবা যশবর্ধন সিং প্রয়াত মধুলিকা রাওয়াতের ভাই। গত শুক্রবার চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ হতেই দ্রুত দিল্লি উড়ে যান প্রয়াত সিডিএস রাওয়াত এবং মধুলিকার শেষকৃত্যে অংশ নিতে।
বুকে স্বজন হারানোর বেদনা। তবু প্রতিযোগিতা চলাকালীন হাত এতটুকু কাঁপেনি বান্ধবী সিংয়ের। বরং নিজেই নিজেকে বলেছিলেন, প্রতিটি ইভেন্টে সোনা জিততে হবে। সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নামী শুটার বলেছেন, ‘‘এই টুর্নামেন্টে আমার একটাই লক্ষ্য ছিল, সোনা জয়। যাতে প্রতিটি সোনা প্রয়াত বিপিনজিকে এবং ওঁর সঙ্গে প্রয়াত অন্য যোদ্ধাদের উৎসর্গ করতে পারি। আমি বিপিনজিকে নিজের মেন্টর এবং পথপ্রদর্শক হিসাবে চিরকাল মনে রাখব।’’ প্রসঙ্গত, গতবার জাতীয় শুটিংয়ে মোট ৮টি পদক পেয়েছিলেন, তার মধ্যে ৫টি সোনা ছিল। এবার সাফল্য আরও বেশি তাঁর।