ইউপিএ-তে যোগ দিতে পারে শিবসেনা, রাহুলকে ইঙ্গিত রাউতের, মমতা বলেছিলেন, কীসের ইউপিএ!
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র কদিন আগে মুম্বইতে এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কীসের ইউপিএ? কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সাত দিন পর সেই শরদ পাওয়ারের পার্টিই ইঙ্গিত
শেষ আপডেট: 9 December 2021 03:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র কদিন আগে মুম্বইতে এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কীসের ইউপিএ? কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সাত দিন পর সেই শরদ পাওয়ারের পার্টিই ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রয়োজনে তারা যোগ দিতে পারেন ইউপিএ-তে।
২০০৪ সালে কেন্দ্রে কংগ্রেসের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছিল। সেই শাসক জোটের নাম ছিল ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স তথা ইউপিএ। তাতে প্রথম থেকে শরিক ছিলেন শরদ পাওয়ার। কিন্তু তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ শিবিরে। পরে ২০০৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে বামেরা ইউপিএ থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের পর মমতা শরিক হয়েছিলেন সেই জোটের। তৃণমূলের বক্তব্য, ইউপিএ তৈরি হয়েছিল সরকার চালানোর জন্য। এখন সেই শরিকরা সবাই বিরোধী আসনে রয়েছে। ফলে ইউপিএ বলতে কিছু এখন নেই।
কিন্তু বুধবার একটি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিয়ে শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বলেন, মহারাষ্ট্রে তো মিনি ইউপিএ রয়েছে। সেই জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উদ্ধব ঠাকরে। ঠিক এরকমই কেন্দ্রে ইউপিএ-তে শিবসেনা সামিল হতে পারে। জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে সেনার যে সমস্যা নেই তাও জানিয়েছেন রাউত।

মঙ্গলবারই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছিলেন এই শিবসেনা নেতা। সঞ্জয় রাউত ঠাকরে পরিবারের দূত হয়ে যে দৌত্য চালান তা সকলেই জানেন। ফলে উদ্ধবের ফরমান নিয়ে তিনি যে রাহুলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এ বিষয়ে সংশয় নেই। সঞ্জয় এদিন বলেন, শিবসেনা যে ইউপিএ-তে যোগ দিতে পারে সেই ইঙ্গিত তিনি রাহুলকেও বলেছেন। তাঁর কথায়, রাহুলের যোগ্যতা রয়েছে। এটা ঠিক যে কংগ্রেসের মধ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে। তা রাহুল গান্ধী ঠিক করার চেষ্টা করছেন।
শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়া কোনও এক ব্যক্তির স্বর্গীয় অধিকার নয়। এ কথা বলে, কার্যত রাহুলকেই নিশানা করেছেন প্রশান্ত কিশোর। এতে যারপরনাই ক্ষিপ্ত কংগ্রেস। ফলে কংগ্রেসও এখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা সমালোচনা শুরু করেছে। রণদীপ সিং সুরজেওয়ালারা বলছেন, মমতা হলেন বিজেপির স্বাভাবিক সহযোগী তথা ন্যাচারাল অ্যালাই।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেসকে খুশি করে চলা ছাড়া শিবসেনার উপায় নেই। কারণ, মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসের সমর্থনে সরকার চলছে। ফলে সঞ্জয় রাউত এখন যা বলছেন, সেটাকেই তাঁদের শাশ্বত অবস্থান বলে ধরে নিলে ভুল হতে পারে। পরবর্তী লোকসভা ভোট হবে ২০২৪ সালে। এখনও প্রায় আড়াই বছর বাকি। তার আগে অনেক জল গড়াবে, বদলাবে অনেক সমীকরণ।