
শেষ আপডেট: 21 February 2023 09:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি নিজে লাঠি হাতে বেরিয়েছিলেন। ভেঙেছেন একাধিক মদের দোকান। ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ ডজনের বেশি মামলা ঠুকেছে তাঁর বিরুদ্ধে। মধ্যপ্রদেশে বিজেপি সরকারের মদ বিক্রি নীতির বিরুদ্ধে দলের নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উমা ভারতীর (Uma Bharti) জেহাদ হালে সারা দেশের নজর কেড়েছে।
অবশেষে উমার দাবি মেনে রাজ্যের আবগারী নীতিতে (excise policy) পরিবর্তন আনতে বাধ্য হলেন মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan)। মূল বদল হল, মদের দোকানের পাশে মদ খাওয়ার কোনও ব্যবস্থা রাখা যাবে না। যেগুলি আছে সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে। স্কুল-সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনাস্থলের একশো মিটারের মধ্যে মদের দোকান রাখা যাবে না। উমার দাবি ছিল, প্রকাশ্য মদ খাওয়া এখনই বন্ধ করতে হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বন্ধ করতে হবে মদ বিক্রিও। মদ থেকে সরকারের রোজগার করা চলবে না।
উমার প্রাথমিক দাবি মেনে নিয়ে গত রবিবার নতুন মদনীতি ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। তারপরই জল্পনা শুরু হয়েছে উমা কি এরপর রাজ্য-রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে তৈরি হচ্ছেন। আর সেই রাস্তা তৈরি করে দিতেই কি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতত্বের নির্দেশে মদনীতিতে বদল আনতে বাধ্য হলেন শিবরাজ সিং চৌহান।
মধ্যপ্রদেশের এই বিজেপি নেত্রী হলেন দেশের প্রথম গেরুয়াধারী মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির দুটি বড় কর্মসূচিতে তাঁর বিশেষ অবদান স্বীকার করে দল। একটি রামমন্দির আন্দোলন। সেই আন্দোলনে লালকৃষ্ণ আদবানির পাশে নিয়মিত দেখা যেত উমাকে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন তিনি অযোধ্যায় সক্রিয় ছিলেন বলে সিবিআই চার্জশিটে তাঁর নাম উল্লেখ করেছিল।
দলের প্রতি উমার দ্বিতীয় অবদান, উত্তরপ্রদেশের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংহের মতো মধ্যপ্রদেশের এই নেত্রীও অন্যান্য অনুন্নত শ্রেণি বা ওবিসি ভোটকে বিজেপির দিকে টেনে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। তিনি নিজে ওবিসি-লোধ সম্প্রদায়ভুক্ত। মূলত মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড এলাকায় এই সম্প্রদায়ের বাস। লোধদের মধ্যে জনপ্রিয়তার কারণেই উমা মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশ, দুই রাজ্য থেকেই লোকসভায় গিয়েছেন।
কিন্তু রাজ্য-রাজ্যনীতিতে সক্রিয় ভূমিকায় তাঁকে দেখা যাবে কিনা, নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা তাঁকে সেই গুরুত্ব দেবেন কিনা, এই প্রশ্নে বেশিরভাগেরই সংশয় আছে। উমা বরাবরই বাগী চরিত্রের নেত্রী। লালকৃষ্ণ আদবানীকে গুরু মানলেও তাঁরই সঙ্গে ঝগড়া করায় দল ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। বস্তুত প্রকাশ্যে আদবানী সম্পর্কে যা নয়, তাই বলায় বিজেপি বহিষ্কার করে তাঁকে। সেই পর্বে নতুন দল গড়ে রাজনীতিতে কিছুদিন ভেসে থাকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে ফের বিজেপিতে ফেরেন।
নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়ে গঙ্গা পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন উমা। হঠাৎ করেই মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন। শারীরিক অসুস্থতার কথা বললেও তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয় মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পরে তাঁর কর্মকাণ্ড ঘিরে। তিনি দেশের নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার প্রচারে ব্যস্ত থাকেন।
গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে ফের নিজের রাজ্যে মন দিয়েছেন এই নেত্রী। প্রথমে মধ্যপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করেন। তারপর নামেন মদ বিরোধী আন্দোলনে। উমার ঘনিষ্ঠমহলের খবর, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে মধ্যপ্রদেশ থেকে প্রার্থী হতে চান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মদ বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য সাধারণের, বিশেষ করে মহিলাদের মন জয়।
কিন্তু উমার ইচ্ছাপূরণের সম্ভাবনা নিয়ে ঘোর সংশয় তৈরি করেছে উমার অতীত। তিনি কখন কোন দিকে হাঁটতে শুরু করবেন কেউ জানে না। যেমন, হালে তিনি নিজের লোধ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেছেন, আমি কখনও বলব না বিজেপিকে ভোট দিন। ভোট দেওয়ার আগে বিচার করবেন কোন দলকে ভোট দিলে উপকার হবে। আমি লোধ বলে বিজেপির কাছে আপনারা মাথা বিক্রি করে দেননি। উমার এই ভাষণের ভিডিও ক্লিপ এখনও বিজেপি শিবিরে ঘুরছে। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের সময়ে বিজেপিতে এমন কথা কোনও নেতাকে বলতে শোনা যায়নি। আর এই বাগী ভাবমূর্তিই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে একদা বিজেপি সম্পদ উমার।
বন্ধ ঘরে প্রাথমিকের ইন্টারভিউয়ারদের 'পরীক্ষা' নিলেন বিচারপতি, বললেন 'ভয় পাবেন না'