দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েকদিন আগেই মধ্যপ্রদেশে গরিষ্ঠতা হারিয়েছে কমলনাথ সরকার। সোমবার সন্ধ্যা সাতটায় বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতে পারেন শিবরাজ সিং চহ্বণ। সেক্ষেত্রে তিনি এই নিয়ে চারবার মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন।
গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট কমলনাথকে গরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দেয়। বৃহস্পতিবার ইস্তফা দেন কমলনাথ। তিনি ভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। তখনই মুখ্যমন্ত্রী হতে না পেরে অসন্তুষ্ট হন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। কংগ্রেসের সংসারে এই অশান্তির সুযোগ নিয়েই তাঁকে টোপ দেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। এমনিতেই বিজেপির সঙ্গে সিন্ধিয়া পরিবারের সম্পর্ক নিবিড়। রাজমাতা বিজয় রাজে সিন্ধিয়া জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তাঁর দুই মেয়ে বসুন্ধরা রাজে ও যশোধরা রাজে দু’জনেই বিজেপি নেত্রী। বসুন্ধরার ছেলে দুষ্মন্তও রয়েছেন বিজেপিতে। এবার গেলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তিনি পদত্যাগ করার পরেই মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের ২২ জন বিধায়ক রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। তার ফলেই সরকার পড়ে যায়।
কমলনাথ বলেন, “মধ্যপ্রদেশের মানুষ পাঁচবছরের জন্য রায় দিয়েছিল। বিজেপি এখানে টাকা আর পেশী শক্তি দিয়ে মানুষের সঙ্গে বেইমানি করেছে।” এরপরই তিনি জানিয়ে দেন, “আজই আমি রাজ্যপালের কাছ গিয়ে ইস্তফাপত্র দেব।”
মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় মোট ২৩০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে দু’জন বিধায়কের মৃত্যু হওয়ায় দু’টি আসন শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে গেলে ১১৫ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। কংগ্রেসের রয়েছে ১১৪ জন বিধায়ক। বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। কংগ্রেস ছেড়েছেন ২২ বিধায়ক। পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনও অঙ্কেই কমলনাথের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ ছিল না। তাই ‘ফ্লোর টেস্টে’ না গিয়ে আগেই ইস্তফা দিয়ে দিলেন কমলনাথ।
মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের কোন্দল দেশ বিখ্যাত। তা নতুন শুরু হয়েছে তা নয়। শ্যামাচরণ শুক্ল, বিদ্যাচরণ শুক্ল, অর্জুন সিং, দিগ্বিজয় সিং, কমলনাথ, মাধবরাও সিন্ধিয়া, সুরেশ পাচৌরি—এঁদের কারও পরস্পরের সঙ্গে সদ্ভাব ছিল না। ২০০৩ সাল থেকে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের উপর্যুপরি হারের নেপথ্যেও ছিল মূলত গোষ্ঠী কোন্দল। কিন্তু ২০১৮ সালে বিবদমান নেতাদেরই অনেক বুঝিয়ে এক ছাতার তলায় আনতে পেরেছিলেন রাহুল গান্ধী। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতায় বেসামাল বিজেপি সরকার সেই ঐক্যবদ্ধ ধাক্কা রুখতে পারেনি।