দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ১৮ নভেম্বর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চহ্বণের শ্বশুর ঘনশ্যাম দাস মাসানি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। শ্বশুরের মৃত্যুর চারদিন বাদে চহ্বণ টুইটারে একটি কবিতা শেয়ার করেন। তার নাম 'বাউজি'। চহ্বণ বলেন, তাঁর স্ত্রী সাধনা সিং প্রয়াত পিতার সম্মানে এই কবিতা লিখেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বিতর্ক। মধ্যপ্রদেশের লেখক ও ব্র্যান্ডিং এক্সপার্ট ভূমিকা বিরথারে দাবি করেন, কবিতাটি তাঁর লেখা। চহ্বণ জোচ্চুরি করে অন্যের লেখা কবিতা নিজের স্ত্রীর লেখা বলে চালাতে চান। ভূমিকা বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীজি, আমি আপনার ভাগ্নির মতো। আমার কবিতা চুরি করে আপনার লাভ কী? আশা করি আপনি আমার অধিকার ভঙ্গ করবেন না। কারণ মামা সবসময় অন্যের অধিকার রক্ষার কথা বলে থাকেন।" মধ্যপ্রদেশে চহ্বণ 'মামাজি' বলে পরিচিত।
পরে ভূমিকা বলেন, "কবিতাটা যে আমার লেখা সেকথা স্বীকার করুন স্যার। কবিতার নাম ড্যাডি। বাউজি নয়। আমি বাবার সম্পর্কে যে কবিতা লিখেছিলাম, তাকে অপমান করবেন না।" পরে ভূমিকা এক সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলকে বলেন, "আমার বাবার শেষকৃত্যের সময় কবিতাটি লিখেছিলাম। ফোনের নোটপ্যাডে আমি প্রথমবার কবিতাটি লিখি। সেখানে কবিতা লেখার তারিখ ও সময়ও উল্লেখ করা আছে। হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে আমি কবিতাটি শেয়ার করেছিলাম।"
ভূমিকার দাবি, তিনি ২১ নভেম্বর ফেসবুকে কবিতাটি পোস্ট করেন। এক বন্ধু তাঁকে জানান, মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী সাধনা সিং হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে কবিতাটি শেয়ার করেছেন। তার জবাবে ভূমিকা বন্ধুটিকে হোয়াটস অ্যাপে স্মাইলি পাঠান। কিন্তু পরে জানতে পারেন, মুখ্যমন্ত্রী কবিতাটি তাঁর স্ত্রীর লেখা বলে দাবি করেছেন। ভূমিকার বক্তব্য, মামাজিকে তিনিও পছন্দ করেন। কবিতা নিয়ে তিনি রাজনীতি করতে চান না। তিনি শুধু চান, তাঁকে ওই কবিতার লেখক বলে স্বীকার করা হোক।
https://twitter.com/bhumikabirthare/status/1333595358782312448
https://twitter.com/bhumikabirthare/status/1333594487633821696
চহ্বণের সমালোচনা করে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ যাদব বলেন, "বিজেপি নাম পরিবর্তন করতে খুব ভালবাসে। এর আগে তারা কংগ্রেসের চালু করা বিভিন্ন প্রকল্পের নাম বদলে দিয়েছে। এখন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চহ্বণ অন্যের লেখা কবিতা নিজের স্ত্রীর বলে দাবি করছেন।"
রাজ্য বিজেপি এসম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, এটা মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয়।