দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সোমবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, কারও কারও কাছে ক্ষমতা অক্সিজেনের মতো। কিন্তু বাজপেয়ীজি জীবনের বেশিরভাগ সময় বিরোধী বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন। পরোক্ষে কংগ্রেসের উদ্দেশেই মোদী ওই কটাক্ষ করেন। কিন্তু বুধবার নিজেদের মুখপত্র সামনা-য় তার জবাব দিয়েছে শিবসেনা। তাতে বলা হয়েছে, যারা ‘আচ্ছে দিন’ আনতে ব্যর্থ তারাই এখন বিরোধী বেঞ্চে বসতে হবে ভেবে ভয় পাচ্ছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা ডাকাতদের বানাচ্ছে বাল্মীকি।
মোদী বলেছিলেন, অনেক লোক আছে যারা ক্ষমতায় না থাকলে অস্থির হয়ে পড়ে। পাঁচ বছর দূরে থাক, দু’বছরও তারা বিরোধী আসনে বসতে চায় না। তার জবাবে শিবসেনার মুখপত্রে লেখা হয়েছে, অযোধ্যা থেকে রাম নির্বাসিত হয়েছেন। রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হয়েছেন লালকৃষ্ণ আদবানি। তাঁদের বদলে অন্যরা এখন ‘ক্ষমতার অক্সিজেন’ পাচ্ছে।
সামনার সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, কাউকে জোর করে নির্বাসনে পাঠানোই এখন ক্ষমতার রাজনীতি। মোদীজি বলেছেন, বাজপেয়ী জীবনের বেশির ভাগ সময় বিরোধী আসনে বসেও সন্তুষ্ট ছিলেন। কিন্তু অনেকে বিরোধী বেঞ্চে বসতে হলেই অস্থির হয়ে পড়ে। আমরা জানতে চাই, তারা কারা?
এর পরে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অক্সিজেন পাওয়ার জন্য গুন্ডা আর চোরদের বলা হচ্ছে পবিত্র। ভোটে জেতার জন্য ডাকাতদের বানানো হচ্ছে বাল্মীকি।
শিবসেনার সঙ্গে বিজেপির জোটের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে আমাদের সঙ্গে বিজেপির ছাড়াছাড়ি হয়। তখন ক্ষমতার অক্সিজেনের সিলিন্ডার চুরি হয়ে গিয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যে হিন্দুত্বের অক্সিজেনের সাপ্লাই বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই এখন বিজেপি বিবৃতি দিচ্ছে, শিবসেনার সঙ্গে জোট হতে পারে।
সকলের কম্পিউটারে ও মোবাইলে নজর রাখার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সামনা-য় বলা হয়েছে, প্রকৃত গণতন্ত্রে এমন ঘটে না। যারা ক্ষমতায় আছে, তারাই অস্থির হয়ে অপরের ওপরে নজর রাখতে চায়।
শিবসেনা বিজেপির সবচেয়ে পুরানো মিত্র। নীতিগতভাবে উভয় দলই হিন্দুত্বে বিশ্বাসী। কিন্তু কিছুদিন ধরে দুই শরিকের বিরোধ উঠেছে চরমে। শিবসেনা কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীরও প্রশংসা করেছে।