দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার শোনা গিয়েছিল, আমেরিকার মতো ‘মাদার অব অল বম্বস’ বানিয়েছে চিনও। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানা গেল, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
চিন চাইছে দক্ষিণ চিন সাগরে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে তার। তাইওয়ান আগামী দিনে স্বাধীন রাষ্ট্র থাকবে কিনা, তা নিয়েও আমেরিকার সঙ্গে গুরুতর মতবিরোধ আছে চিনের।
দক্ষিণ চিন সাগর আসলে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি অংশ। ওই সমুদ্রের ওপর দিয়ে বহু বাণিজ্য জাহাজ যাতায়াত করে। প্রতি বছর দক্ষিণ চিন সাগরের অপর দিয়ে ৫ হাজার কোটি ডলারের ব্যবসা হয়। চিন বাদে অপর যে দেশগুলির জাহাজ ওই সমুদ্রে চলাচল করে তার মধ্যে আছে ব্রুনেই, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনাম। চিন চায়, জলপথে সবাই তাকে সমঝে চলুক।
আমেরিকা একসময় চিনা পণ্য আমদানির ওপরে চড়া হারে শুল্ক ধার্য করেছিল। ফলে চিনের ব্যবসায় ক্ষতি হতে থাকে। প্রতিশোধ নিতে গিয়ে চিনও আমেরিকার পণ্যের ওপরে চড়া শুল্ক বসায়। এইভাবে শুরু হয় বাণিজ্য যুদ্ধ। গত নভেম্বরে আর্জেন্টিনায় জি-২০ শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশ একটা সমঝোতায় আসে। তখনকার মতো বাণিজ্যযুদ্ধ শেষ হয়। তবে যে কোনও সময় তা নতুন করে শুরু হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
তাইওয়ান নিয়েও ক্রমশ আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে চিন। নতুন বছরের শুরুতেই শি বলেছেন, আমরা চাই তাইওয়ান চিনের সঙ্গে যুক্ত হোক। সেজন্য বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যাই হোক না কেন, ওই দ্বীপটিকে শেষ পর্যন্ত চিনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে।
চিন এখনও মনে করে তাইওয়ান তারই অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদিও সেই ১৯৪৯ সাল থেকে দুই দেশে পৃথক প্রশাসন চালু আছে। কিন্তু চিন বিশ্বাস করে, একদিন না একদিন তারা ঐক্যবদ্ধ হবেই। যে প্রেসিডেন্টের আমলে তাইওয়ান ঐক্যবদ্ধ হবে, তিনি বিশেষ সম্মানের অধিকারী হবেন। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, শি সেজন্যই চাইছেন, তাঁর আমলেই তাইওয়ানের অন্তর্ভূক্তি সম্পন্ন হোক। সেজন্য সেনা পাঠাতেও তিনি দ্বিধা করবেন না।
চিন এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ। সে ভারতের প্রতিবেশীও বটে। ১৯৬২ সালে ভারতের সঙ্গে চিনের যুদ্ধ হয়েছে। কয়েক বছর আগে ভারতে ডোকলাম অঞ্চলে ঢুকে পড়েছিল চিনের সেনা। এই অবস্থায় শি চিনের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য তৈরি রাখছেন শুনে উদ্বেগ ছড়িয়েছে নানা মহলে।