
শাহজাহান গড়ে উদ্ধার হয়েছে বিপুল অস্ত্র
শেষ আপডেট: 26 April 2024 21:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেখ শাহজাহানের সঙ্গে কি আন্তর্জাতিক অস্ত্রপাচার চক্রের যোগ ছিল? শুক্রবার দিনভর সন্দেশখালিতে সিবিআই-এনএসজি-র অভিযানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের পর সেই জোরালো প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে।
তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের আত্মীয়ের বাড়ির মেঝে খুঁড়ে বিপুল অস্ত্রের হদিশ মেলে। তল্লাশি চালিয়ে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রচুর পরিমাণ বোমা উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। দেশি-বিদেশি অস্ত্রের সঙ্গে শাহজাহানের একাধিক পরিচয়পত্র উদ্ধার হয়েছে। সিবিআই সূত্রের খবর, সেইসব আই কার্ডে শাহজাহানের ছবিও দেওয়া রয়েছে। এরপরই শাহজাহানের সঙ্গেই ওই অস্ত্র উদ্ধারের যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেন তদন্তকারীরা। সেই তদন্তের কিনারা করতেই সন্দেশখালিতে তন্ন তন্ন করে চলছে তল্লাশি।
গত ৫ জানুয়ারি শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে ইডি আধিকারিকদের উপর হামলা করেন শাহজাহান অনুগামীরা। আহত হন তিন ইডি আধিকারিক। ইডির উপর হামলার ঘটনার সঙ্গে শুক্রবার উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের যোগসূত্র রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেক্ষেত্রে গত ৫ জানুয়ারি শাহজাহানের বাড়িতে কি ওই অস্ত্রগুলি মজুত ছিল? সেই কারণেই কি ইডিকে মরিয়া হয়ে আটকায় শাহজাহান বাহিনী? উঠছে নানান প্রশ্ন।
সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, এদিন সন্দেশখালিতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের ৩৪৮ টি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও ৪৫ ক্যালিবারের ৫০ টি কার্তুজ, ৩ টি বিদেশি রিভলভার, ১ টি দেশি পিস্তল, ১২০ টি ৯ এমএম বুলেট, ৮ টি .৩২ কার্তুজ, একটি পুলিশের রিভলভার, দেশি বোমা, উদ্ধার হয়েছে। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা অন্তত ১৫।
ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, বিদেশী অস্ত্র থাকার অর্থ, আন্তর্জাতিক অস্ত্র পাচার চক্রের সঙ্গে যোগ। সেই যোগ কী তাহলে শাহজাহানের? প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। বিপুল অস্ত্র কোথা থেকে কেনা হয়েছিল? অস্ত্র পাচার চক্রের সঙ্গে কি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের যোগ রয়েছে? শাহজাহানই বা কীভাবে জড়িত, কীভাবে হয়েছে অস্ত্র পাচার? শাহজাহানের বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়ার সঙ্গে এর কী যোগ আছে? তবে কী রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে শাহজাহান সরাসরি যুক্ত? সিবিআই-এনএসজি-র অভিযানের পর থেকেই এই প্রশ্নগুলি ঘোরাফেরা করছে সন্দেশখালির আনাচে-কানাচে।
এদিন সন্দেশখালির আগারহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মল্লিকপাড়া এলাকার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য হাফিজুল খাঁর ভগ্নিপতি আবু তালেব মোল্লার বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই। গোপন সূত্রে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা খবর পান, ওই বাড়িতে প্রচুর বোমা মজুত করে রাখা আছে। শুরু হয় টানা তল্লাশি অভিযান। অস্ত্র উদ্ধারের জন্য সন্দেশখালিতে নিয়ে যাওয়া হয় রোবট, ডিটেকশন ডগ, বালিবোঝাই বস্তা। অত্যাধুনিক এই রোবটিক্স ডিভাইস সরবেড়িয়ার গ্রামের পথ ধরে পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। এরপর যন্ত্রটি ওই বাড়ি থেকে একটি ব্যাগে নিয়ে বেরিয়ে আসে। সন্ধে নামার পর নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যবস্থা করে একের পর এক বোমা নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু হয়।