
শেখ শাহজাহান
শেষ আপডেট: 12 June 2024 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চারিদিকে বিঘার পর বিঘা জুড়ে ভেড়ি। তারই মাঝে একটি সন্দেহজনক বাড়িকে কেন্দ্র করে গত এপ্রিল মাসে নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটে সন্দেশখালিতে। গত ২৬ এপ্রিল উত্তরবঙ্গে যখন লোকসভার দ্বিতীয় দফার ভোট চলছে, ঠিক তখনই সন্দেশখালির তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য হাফিজুল খাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে তল্লাশি করে বিপুল বিস্ফোরকের সন্ধান পায় সিবিআই। উদ্ধার হয় প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র। ডাক পড়ে এনএসজি কম্যান্ডের। আর এইসব আগ্নেয়াস্ত্র লুকানোর জন্যই সন্দেশখালিতে ইডির উপর হামলা হয়েছিল। যার নেপথ্যে ছিলেন শেখ শাহজাহান। চার্জশিটে এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছে সিবিআই।
সম্প্রতি সন্দেশখালি কাণ্ডে বসিরহাট মহকুমা আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। যেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, গত জানুয়ারি মাসে শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে ইডির উপর যে হামলা হয়, সেই সময় শাহজাহানের বাড়িতে লুকানো ছিল বিপুল অস্ত্রভান্ডার। পরে সেই অস্ত্র শাহজাহান ঘনিষ্ঠ আবু তালেমের বাড়িতে রেখে আসেন শেখ আলমগীর।
সন্দেশখালিতে ইডির উপর হামলাকে শাসকদলের তরফে একাধিকবার 'স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ' বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। কিন্তু সিবিআইয়ের তদন্তে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ইডি আধিকারিকরা যে আসছেন সেই খবর আগেই শাহজাহানের কাছে ছিল। কিন্তু তদন্তকারীরা তাঁর বাড়িতে পৌঁছলে তিনি তদন্তে সহযোগিতার করার পরিবর্তে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। সেই সময়ে তাঁর বাড়িতে প্রচুর অস্ত্র মজুত ছিল। তড়িঘড়ি ফোনে জিয়াউদ্দিন মোল্লা সহ তাঁর ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে বাড়ি থেকে ওই অস্ত্রভান্ডার সরানোর ব্যবস্থা করেন শাহজাহান। একইসঙ্গে ইডির আধিকারিকদের ওপর হামলা চালায়।
সিবিআই সূত্রের খবর, গত ৫ জানুয়ারি যখন ইডির আধিকারিকেরা শাহজাহানের বাড়িত তল্লাশি করতে এসে আক্রান্ত হন, তখন ঘটনাস্থলে ছিলেন এক সিভিক ভলান্টিয়ার। শেখ শাহজাহান মার্কেটের বাইরেই তিনি কর্মরত ছিলেন। সেই ভলান্টিয়ারের বয়ান নিয়েছে সিবিআই। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, ওইদিন শাহজাহান মার্কেটের পিছনে যে সকাল থেকে অচেনা মানুষদের ভিড় জমতে শুরু করে তা তিনি সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ থানায় জানিয়েছিলেন। বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখে ওই জমায়েতে জিয়াউদ্দিন সহ আর কারা উপস্থিত ছিলেন তাঁদের শনাক্তও করেছেন তিনি। এরপর সকাল ৯টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। সেক্ষেত্রে আগে থেকে খবর থাকা সত্ত্বেও কেন প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে পুলিশ সেখানে পৌঁছল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন সিবিআই আধিকারিকেরা।
গত ৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে সন্দেশখালিতে শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে আক্রান্ত হন ইডি আধিকারিকরা। শাহজাহান অনুগামীদের হামলায় গুরুতর জখম হন তাঁরা। এরপর থেকে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় সন্দেশখালির বিস্তীর্ণ এলাকায়। শাহজাহান ও তাঁর শাগরেদদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে গ্রামবাসীরা। দীর্ঘদিন বেপাত্তা থাকার পর রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় শেখ শাহজাহান। এরই মধ্যে জমি দখল থেকে মহিলাদের উপর নির্যাতন, শাহজাহানের একাধিক কুকীর্তি সামনে আসতে থাকে। যদিও লোকসভা নির্বাচনের আগে স্টিং অপারেশনের একাধিক ভিডিও ঘিরে সন্দেশখালি কাণ্ড নতুন মোড় নেয়।