
শেষ আপডেট: 12 January 2024 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: একসময় বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে ভোট মেশিনারি বলতে দুজনের নাম পাশাপাশি উচ্চারিত হত। একজন শেখ শাজাহান। অন্যজন বাবু মাস্টার। গত শুক্রবার ভোরবেলা বাড়িতে ইডি হানার পর থেকেই গায়েব সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান। তার খোঁজ পেতে মরিয়া ইডি-বিএসএফ, এমনকী এনআইএ-ও। কিন্তু সপ্তাহ ঘুরলেও এখনও অধরা শাহজাহান শেখ। সুন্দববনের প্রত্যন্ত সন্দেশখালি থেকে শাহজাহান বাংলাদেশে পালিয়ে গেল কি না তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। একজন যখন নিরুদ্দেশে তখন আরেকজনকে দেখা গেল বাইরে এসে জনজোয়ারে ভেসে যেতে। তিনি ফিরোজ কমাল গাজি, ওরফে বাবু মাস্টার।
হাসনাবাদ ব্লকের আমলানি পঞ্চায়েতের অধীন তালপুকুরে ব্যবসায়ী সেলিম গাজীর আমন্ত্রণে উপস্থিত হয়েছিলেন বাবু মাস্টার। তাঁকে দেখামাত্রই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল জনতা। এখানে নিজের হাতেই অনুগামীদের মিষ্টি মুখ করালেন বাবু মাস্টার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সেলিম আমার ছোট ভাইয়ের মতো। দীর্ঘদিনের পরিচিত। তার আমন্ত্রণে সাড়া না দিয়ে পারলাম না। রাজনীতির আঙিনায় না থাকলেও সৌজন্য তো দেখাতে হয়।”
এদিন বাবু মাস্টারকে দেখামাত্রই হাজার হাজার মানুষ উচ্ছ্বাসে ভেসে যান। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন-মাখালগাছার পঞ্চায়েত সদস্য আবুল কালাম মোস্তফা মণ্ডল, এবাদুল গাজি, আমলানি গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা তাপসী মণ্ডল, নুরউজ্জামান গাজি সহ অন্যরা। বাবু মাস্টার বলেন, “মানুষ আমাকে এখনও এত ভালবাসে দেখে সত্যিই আমি অভিভূত।”
২০০১ সালে বাম জমানায় স্কুল শিক্ষকের চাকরি পেয়েছিলেন বাবু। তখন সিপিএম এর ঘনিষ্ঠ দাপুটে নেতা হিসেবেই পরিচিতি ছিল তাঁর। খুন-সহ পাঁচটি মামলাও ছিল বাবু মাস্টারের বিরুদ্ধে। ২০১১ সালে রাজ্যে পালা বদলের পর সিপিএম থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। তারপরেও বেশ কিছুদিন চালিয়েই ব্যাট করেন। কিন্তু ১৯ এর লোকসভা ভোটের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে দলের দূরত্ব বাড়তে থাকে। ২০২০ সালে কর্মাধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেন বাবু। তৃণমূল সঙ্গ ত্যাগ করে একুশের নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। তারপরে বিজেপিও ছেড়ে দেন। আবার কি নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন তিনি? এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বাবু বলেন, “ইচ্ছা আছে, রাজনৈতিকভাবে পথ চলার। তবে সময় ও পরিস্থিতিই সব বলে দেবে।”
শাহজাহানের ভরাডুবির পর এবার কি তবে নতুন করে উত্থান হচ্ছে বাবু মাস্টারের! এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন এলাকার মানুষ।