দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন নিয়ে এখনও অবস্থান স্পষ্ট না করায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজিওয়ালকে কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর। নাগরিকত্ব (সংশোধন) বিল সংসদে পাশ হওয়ার আগে থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট করে দিয়েছে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবার হামলার পরে এতদিন কেটে গেলেও এখনও তিনি ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করে উঠতে পারেননি বলে মন্তব্য করে তাঁকে ‘অসহায় মুখ্যমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করেছেন তারুর।
একটি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তারুর বলেন, “নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইনের ব্যাপার হয়তো একই সঙ্গে পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান করছেন কেজরিওয়াল, তিনি এনিয়ে কোনও অবস্থানই নেননি। যদি তিনি পক্ষে বা বিপক্ষ কোনও দিকেই অবস্থান স্পষ্ট করls না পারেন তা হলে জনতা কিসের ভিত্তিতে তাঁকে ভোট দেবে?”
ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন কার্যকর করতে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
রবিবার জেএনইউতে মুখোশধারীদের হামলার ঘটনায় জড়িত হিসাবে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষের নাম করেছে দিল্লি পুলিশ। বহিরাগতদের আক্রমণে ঐশী ঘোষ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার প্রেক্ষিতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছিলেন, ওই ঘটনায় পুলিশ কিছুই করেনি কারণ দিল্লি থেকে তেমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
শশী থারুর এদিন বলেন, “আমি জানি না তিনি (কেজরিওয়াল) কার নির্দেশ পেয়েছিলেন। কে আপনাকে (কেজরিওয়ালকে) নিষেধ করেছে ছাত্রছাত্রীদের উপর হওয়া হিংসার বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য না করতে এবং আহত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা না করতে এবং সিএএ নিয়ে কোনও স্পষ্ট অবস্থান না নিতে? আপনি ওখানের মুখ্যমন্ত্রী এবং আপনাকে কেউ কোনও নির্দেশ দিতে পারে না।”
তারুর দাবি করেন, আগে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিততে ‘অসহায়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন কেজরিওয়াল। এদিন তিনি কেজরিওয়ালের উদ্দেশে বলেন, “তিনি নিজে এক বার নিজের টুইটটি পড়ে দেখুন। যেসব ছাত্রছাত্রী লাঠির আঘাতের মুখে পড়েছেন তাঁদের অভিভাবকরা কি চাইবেন যিনি পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করতে গেলেন না এইরকম অসহায় মুখ্যমন্ত্রীকে!”
এমাসের গোড়ায় একটি সংবাদ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শশী তারুর বলেছিলেন, “আমি নাগরিকতত্ব সংশোধনী আইন ঠিক বুঝতে পারছি না। অমিত শাহ কখন এনিয়ে বলবেন? আমাদের সন্তানদের মাথার উপরে ছাদ নেই, চাকরি নেই, ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আর সরকার পাকিস্তান থেকে আসা দু’কোটি হিন্দুকে নাগরিকত্ব দিচ্ছে। আগের নিজের দেশের সমস্যা মেটান তারপরে অন্যদের কথা ভাববেন।”