দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২৬ জানুয়ারি রাজধানীতে কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিল নিয়ে আপত্তিকর টুইট করেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর ও ছয় সাংবাদিক। সেজন্য পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিল, কোনও সরকারি এজেন্সি এখন তারুর বা ছয় সাংবাদিককে গ্রেফতার করতে পারবে না। আগামী দু'সপ্তাহ বাদে তারুরদের মামলা নিয়ে ফের শুনানি হবে শীর্ষ আদালতে।
দিল্লি পুলিশের হয়ে এদিন সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। অভিযুক্তদের পক্ষে ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। যে সাংবাদিকরা এই মামলায় অভিযুক্ত, তাঁরা হলেন রাজদীপ সরদেশাই, মৃণাল পাণ্ডে, জাফর আগা, বিনোদ কে যোশ, পরেশ নাথ এবং অনন্ত নাথ। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা নাকচ করে দেওয়া হোক। এদিন তারুর ও সাংবাদিকদের আবেদন শোনে তিন বিচারপতির বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের সভাপতিত্বে গঠিত ওই বেঞ্চের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারপতি এ এস বোপান্না ও বিচারপতি ভি রামসুব্রমনিয়াম।
পুলিশের অভিযোগ, তাঁরা দেশদ্রোহিতা করেছেন। চক্রান্ত করে প্রচার করেছেন, দিল্লি পুলিশ ট্র্যাক্টর মিছিলে অংশ নেওয়া এক কৃষককে খুন করেছে।
মঙ্গলবারি গ্রেফতার হয়েছেন লালকেল্লা কাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত গায়ক দীপ সিধু। তিনি প্রজাতন্ত্র দিবসের পরেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন। তাঁর সন্ধান দিতে পারলে ১ লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। এতদিনে দীপ সিধুর খোঁজ মিলেছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কৃষক আন্দোলনের শুরু থেকেই এই পাঞ্জাবি অভিনেতার মুখ বারে বারেই সামনে এসেছে। প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির রাজপথে কৃষকদের ট্র্যাক্টর র্যালি ঘিরে বেনজির হিংসা ও বিশৃঙ্খলায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে তাঁকে বিক্ষোভের পুরোভাগেই দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তার পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
গত ছ’মাস ধরে দীপ সিধুর নামের চর্চা চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কৃষি বিলের বিরোধিতায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে বারে বারেই গলা চড়িয়েছেন এই পাঞ্জাবি গায়ক তথা অভিনেতা। বিজেপি হেভিওয়েট নেতামন্ত্রীদের সঙ্গে দীপ সিধুর যোগসাজশের খবরও সামনে এসেছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের ঘটনার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীপ সিধুর একের পর ছবি পোস্ট হতে থাকে। সেখানে দেখা গিয়েছে ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর প্রচার সঙ্গী হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন সিধু। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও ছবি সামনে এসেছে দীপ সিধুর। এরপরেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের আন্দোলনকে হিংসাত্মক চেহারা দেওয়ার পিছনে যে দীপ সিন্ধুর ইন্ধন ছিল সে অভিযোগও উঠতে শুরু করেছে। কৃষক সংগঠনের অনেক নেতারই অভিযোগ, আন্দোলন যে পথে চালিত করার কথা ছিল তা হয়নি। বরং আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে হিংসার পথে আন্দোলনে মোড় ঘুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে কিছু লোকের প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে।