দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইনের কড়াকড়িতেও লাভ হয়নি। চাইল্ড লাইনের প্রচার, কর্মসূচীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নাবালিকা মেয়েদের জোর করে বিয়ের পিঁড়িতে বসানোর ঘটনা ঘটেই চলেছে দেশে। কোভিড অতিমহামারীর এই সময় দীর্ঘকালীন লকডাউনে একের পর এক নাবালিকা বিয়ের খবর আসছে প্রশাসনে। বিশেষত কর্নাটকে যেভাবে কিশোরী মেয়েদের জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে তা রীতিমতো চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্নাটকের স্টেট কমিশন ফর প্রোটেকশন অব চাইল্ড রাইটস (কেএসসিপিসিআর) জানিয়েছে, মার্চে লকডাউন শুরু হওয়ার পরেই একটা দুটো করে এমন খবর আসছিল। এপ্রিল থেকে জুলাই, এই চার মাসে রাজ্যের নানা জায়গা থেকে অন্তত ১০৭টি নাবালিকা বিয়ের খবর এসেছে। গত বছর রাজ্যে ১৫৮টি নাবালিকা বিয়ের ঘটনা ঘটেছিল। এ বছর মাত্র চারমাসেই সংখ্যাটা একশো ছাড়িয়ে গেছে।
রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ডক্টর সেবাস্টিয়ান অ্যান্থনি জানিয়েছেন, প্রশাসনিক কর্তারা যখন কোভিড মহামারী ঠেকাতে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই চুপিসাড়ে নাবালিকা মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা পাকা করে ফেলেছেন তাদের অভিভাবকরা। এই চার মাসে লকডাউনের কড়াকড়িতে পুলিশকে নানা ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল। ভিড় ঠেকাতে, বহু মানুষের জমায়েত রুখতে, করোনা আতঙ্ক কাটাতে নানা কর্মসূচী নেয় পুলিশ। তাই এই দিকে তেমনভাবে খেয়াল করতে পারেননি পুলিশ কর্তারা। তার উপরে সামাজিক মেলামেশা বন্ধ থাকায়, কোন বাড়িতে চুপিচুপি বাচ্চা মেয়েদের জোর করে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে সেটা টের পাননি প্রতিবেশীরাও। তাই পুলিশে খবরও পৌঁছয়নি।
ডক্টর অ্যান্থনি বলছেন, গত ২৩ মার্চ থেকে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে শুরু হওয়া লকডাউন চলাকালীনই একের পর এক নাবালিকার বিয়ের খবর আসছে প্রশাসনের কাছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে দিয়ে বিয়ে বন্ধ করা গেলেও অনেক ক্ষেত্রে লকডাউনের জন্য কারও বাড়িতে কী হচ্ছে সেটা জানতে পারা যাচ্ছে না। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু পরিবার চুপিসাড়ে বিয়ের আয়োজন করে ফেলছে বলে অভিযোগ।
চাইল্ড লাইন জানাচ্ছে, লকডাউনে স্কুল-কলেজ বন্ধ। বহু মানুষ চাকরিও খুইয়েছেন। অভাবী পরিবারগুলো সংসার টানতে নাকাল হচ্ছে। তাই কিশোরী মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে অনেকেই। এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে পুলিশ এখন অন্য কাজে ব্যস্ত। পাড়া-প্রতিবেশীরাও ঘরে আটকে। ফলে চাইল্ড লাইনে কোনও ভাবে খবর গেলেও কেউ আটকাতে পারবে না। এমন মানসিকতা থেকেই এই সময়ে বিয়ের ব্যবস্থা করছেন অনেকে। আবার এমন মানসিকতাও দেখা গেছে যে, লকডাউনে বিয়ের আয়োজন করলে কম অতিথিকে নিমন্ত্রণ করতে হবে। তাই কম খরচেই মেয়েকে পাত্রস্থ করে ফেলা যাবে।
রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বাল্লারি, মাইসোর, বাগলাকোট, ধারওয়াড়, বেলাগাভির প্রত্যন্ত এলাকা থেকেই বেশিরভাগ নাবালিকা বিয়ের খবর এসেছে। কর্নাটকের নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতরের ডিরেক্টর কে এ দয়ানন্দ বলেছেন, কিছু সচেতন মানুষও রয়েছেন যাঁরা এমন ঘটনা দেখলেই পুলিশে খবর দিয়েছেন। গত বছরের থেকে এই সময় নাবালিকা বিয়ের ঘটনা অনেক বেড়েছে রাজ্যে। এমন কোনও ঘটনার খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গেই ‘১৮১’হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে খবর দিতে বলেছেন তিনি। পুলিশ খবর পেলেই যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেবে।