দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যখন তলানিতে তখন একটি উদ্বেগজনক খবর শোনাল জার্মানি। সেদেশের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, গত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান গোপনে এমন প্রযুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করছে, যা দিয়ে পরমাণু, জৈব ও রাসায়নিক অস্ত্র বানানো যায়। নভেম্বরের শুরুতে জার্মানির সরকার সেদেশের বামপন্থী দলের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তরে সরকারিভাবে এই তথ্য জানিয়েছে।
বামপন্থী দলের চার এমপি সরকারকে প্রশ্ন করেছিলেন, কোনও বিদেশি রাষ্ট্র কি জার্মানি থেকে গোপনে এমন প্রযুক্তি কেনার চেষ্টা করছে যা দিয়ে পরমাণু, জৈব ও রাসায়নিক অস্ত্র বানানো যায়? তার জবাবে জার্মান সরকার বলে, ২০১০ সাল থেকে গোপনে ওই ধরনের প্রযুক্তি কেনার প্রবণতা বেড়েছে। প্রথমদিকে ইরান পরমাণু প্রযুক্তি কিনতে খুব উৎসাহ দেখিয়েছিল। কিন্তু ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে তাদের বিরুদ্ধে জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন চালু হয়। তারপর থেকে ইরান আর ওই চেষ্টা করেনি।
এরপরেই পাকিস্তানের কথা উল্লেখ করেছে জার্মান সরকার। তারা বলেছে, “ইরান পরমাণু প্রযুক্তি পাওয়ার আশা ত্যাগ করেছে ঠিকই কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে ওই ধরনের প্রযুক্তি পাওয়া যায়।” একইসঙ্গে জানানো হয়, উত্তর কোরিয়া বা সিরিয়ার মতো দেশ পরমাণু প্রযুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করছে না।
জার্মান সরকারের অপর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, “জার্মানি ও অন্যান্য পাশ্চাত্য দেশ থেকে পরমাণু প্রযুক্তি পাওয়ার জন্য পাকিস্তানের প্রয়াস বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি তারা এমন পণ্য সংগ্রহ করতে চায়, যা পরমাণু অস্ত্র বানাতে কাজে লাগে। আগামী দিনেও তারা ওই ধরনের পণ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে মনে হয়।”
রিপোর্টে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানের হাতে এখন ১৩০ থেকে ১৪০ টি পরমাণু অস্ত্র আছে। তারা চায়, ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত আড়াইশ পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে ফেলতে।