
শেষ আপডেট: 13 January 2020 11:13
স্বার্থের সংঘাত শান্তিপূর্ণ ভাবে দূর করা, সুস্থ পরিবেশে সুন্দর ভাবে জনসমক্ষে মত প্রকাশ করা এবং ভিন্ন মতকে সম্মান জানানোই গণতন্ত্রের অন্তঃস্থল বলে উল্লেখ করে তাঁরা দেশের মানুষের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, যাতে দেশের মানুষ বিবেচনা করে দেখেন যে “আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হৃদয়ের খুব কাছে থাকা দুই শব্দ – সত্য ও অহিংসা বাণী সাধারণের সমক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে কিনা।”
‘৭০ ইয়ারস অফ ইন্ডিয়ান কনস্টিটিউশন – আ ডিফাইনিং মোমেন্ট’ শীর্ষক লেখায় যাঁরা সই করেছেন তাঁদের বক্তব্য হল, এখন ৭০ বছর ধরে কার্যকর থাকা সংবিধানের সাফল্য উদযাপন করার সময় এবং যেখানে যা ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে তা সমাধানের সময়।
দেশের সব নাগরিকের কাছে তাঁরা আবেদন করেছেন যাতে এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে আমরা আমাদের সাফল্য নিয়ে মেতে উঠকে পারি এবং আমাদের দুশ্চিন্তা, বিশেষ করে আমাদের বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের সমস্যাগুলি যেন সেখানে প্রতিফলিত হয়। তাঁরা চান, বিআর আম্বেদকর ও আমাদের পূর্বজরা সংবিধানের প্রস্তাবনায় যে লক্ষ্যের কথা বলেছিলেন তা যেন সাধিত হয়।
প্রাক্তন বিচারপতি জে চেলমেশ্বর ও প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কুরেশি ছাড়াও এই চিঠিতে সই করেছেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর, প্রাক্তন সেনাকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরচরণজিৎ সিং পানাগ, চলচ্চিত্র পরিচালক আদুর গোপালকৃষ্ণান, কর্নাটকের বাদ্যশিল্পী টিএম কৃষ্ণ, ইউজিসি এবং আইসিএসএসআরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুখদেও থোরাট এবং পরিকল্পনা আয়োগের প্রাক্তন সদস্য সঈদা হামিদ।
যে দিন এই চিঠিটি প্রকাশ্যে এল তার ঠিক এক বছর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের চারজন বিচারপতি সরব হয়েছিলেন। সেই চার বিচারপতির মধ্যেও ছিলেন বিচারপতি চেলমেশ্বর। তখন দেশের সর্বোচ্চ বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাঁরা সরব হয়েছিলেন, বলেছিলেন এভাবে চললে গণতন্ত্র রক্ষিত হবে না।
অভূতপূর্ব সেই সাংবাদিক বৈঠক শুধু দেশের বিচার ব্যবস্থাকে নয়, অবাক করে দিয়েছিল পুরো দেশকে। খোলাখুলি মতদ্বন্দ্ব কী ভাবে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে এবং প্রতিষ্ঠানকে ফোঁপরা বানিয়ে দিচ্ছে সেই আশঙ্কাও তখন প্রকাশ করা হয়েছিল।
সোমবার দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি মনে করিয়ে দিলেন সংবিধানের পর্যালোচনা ও তার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখার কথা।
তাঁরা বলেছেন ৭০তম প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করতে হবে শান্তিপূর্ণ ভাবে, এই সময়ের মধ্যেই রয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন (২৩ জানুয়ারি), নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার দিন যা পালিত হয় ন্যাশনাল ভোটার্স ডে (২৫ জানুয়ারি) হিসাবে, সাধারণতন্ত্র দিবস (২৬ জানুয়ারি) ও জাতির জনকের শহিদ হওয়ার দিন (৩০ জানুয়ারি)।
গত ১০ জানুয়ারি নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা হয়েছে এবং সেই আইনে বলা হয়েছে ভারতের প্রতিবেশী পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত আগত অমুসলমানদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে যদি তাঁরা ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে দেশ ছেড়ে থাকেন।
শাসকদল বিজেপির বক্তব্য, নিরুপায় হয়েই ওইসব দেশ থেকে সংখ্যালঘুরা ভারতে আসেন।