দ্য ওয়াল ব্যুরো : জেএনইউ-এর ছাত্র শারজিল ইমামের (Sharjil Imam) বিরুদ্ধে মামলায় আগের দিনের শুনানিতে বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি অমিত প্রসাদ বলেছিলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বক্তৃতা দিয়ে হিংসা ছড়াতে চেয়েছিলেন। মুসলিমদের উদ্দেশেই তিনি বক্তব্য পেশ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার ফের শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে ইউএপিএ মামলায় শুনানি হয়। অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অমিতাভ রাওয়াতের এজলাসে সরকারি কৌঁসুলি বলেন, অভিযুক্ত যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তাতে মনে হয়, এদেশে মুসলমানদের কোনও আশা নেই। তিনি ডিটেনশন ক্যাম্পগুলি পুড়িয়ে দিতে বলেছিলেন। অর্থাৎ দিল্লি দাঙ্গায় অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির ভাষণে শান্তির আবেদন করা হয়েছিল, এমন ধারণা ঠিক নয়।
এদিন সওয়ালের শুরুতে শারজিল ইমামের একটি ভাষণ পাঠ করেন সরকারি কৌঁসুলি। ২২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে তিনি ওই ভাষণ দেন। কৌঁসুলির মতে, ওই ভাষণ থেকে স্পষ্ট, সিএএ বা এনআরসিকে তিনি ইস্যু বলেই মনে করেন না। তিনি মূলত জোর দিয়েছিলেন তিন তালাক ও কাশ্মীরের ওপরে। তিনি স্পষ্ট বোঝাতে চেয়েছিলেন, এদেশে মুসলিমদের কোনও আশা নেই।
সরকারি কৌঁসুলি বলেন, শারজিল ইমাম ভারতের সার্বভৌমত্বকেই চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারত সরকার ওই আইন তৈরি করতে পারে না। এইভাবে তিনি মুসলিমদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। কৌঁসুলির মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি জেনেশুনেই বক্তব্য পেশ করেছেন। তিনি দাঙ্গা বাঁধাতে চেয়েছিলেন।
অভিযোগ ২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর শারজিল ইমাম ভাষণে দাঙ্গার উস্কানি দেন। গতবছর ২৮ জানুয়ারি গ্রেফতার হন তিনি। তার আগে শারজিলের এক ভাষণের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে তিনি বলছেন, যদি পাঁচ লক্ষ লোককে সংগঠিত করা যায়, আমরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভারত থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারি। শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পরামর্শ দেওয়া হয়, “শারজিল ইমামের মতো পোকামাকড়দের অবিলম্বে শেষ করে ফেলা উচিত।” তার হাত কেটে নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সামনার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, “শারজিল চায় ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চলটা দখল করে ভারতকে ভাগ করতে। তার হাতদু’টি কেটে নেওয়া উচিত। সেগুলি চিকেনস নেক করডোরে প্রকাশ্যে সকলকে দেখানো উচিত।” অমিত শাহের উদ্দেশে বলা হয়েছে, “শারজিলের মতো পোকামাকড়কে অবিলম্বে ধ্বংস করা দরকার। তবে অমিত শাহ যেন শারজিলের নাম করে রাজনীতি না করেন।”