
শেষ আপডেট: 9 June 2023 08:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের কোলাপুর এখন শান্ত। তবে পরিস্থিতি থমথমে। গত বুধবারের অশান্তিতে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৩৯জনকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে, কোলাপুরের সাম্প্রদায়িক অশান্তি থামলেও ওই ঘটনা নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়ছেই। শুক্রবার এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে মেসেজ পাঠানো হয়েছে তাঁর মেয়ে সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের ফোনে। একই সময় শিবসেনার উদ্ধব গোষ্ঠীর নেতা আর এক সাংসদ সঞ্জয় রাউত ও তাঁর বিধায়ক ভাইকেও মোবাইলে খুনের হুমকি মেজেস পাঠানো হয়।
প্রসঙ্গত, কোলাপুরের ঘটনাকে হাতিয়ার করে পাওয়ার সরাসরি রাজ্যের শিবসেনা (একনাথ গোষ্ঠী)-বিজেপি জোট সরকারকে নিশানা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক স্বার্থে সরকার এই ধরনের সাম্প্রদায়িক অশান্তিকে প্রশয় দিচ্ছে।
কোলাপুরে অশান্তির সূত্রপাত হয়েছিল ঔরঙ্গজেবকে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাস দেওয়ায়। তিন নাবালিকা মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের ছবির সঙ্গে সুখ্যাতি করে কিছু কথা লেখে। তাতেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা। বিবাদ ছড়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। হিন্দুরা শহরের শিবাজী চকে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। পাল্টা জমায়েত করে মুসলমানরা। দু পক্ষই ইট-পাথর ছোঁড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠি চালায়। বন্ধ রাখা হয় ইন্টারনেট পরিষেবা।
ওই ঘটনা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন পাওয়ার, সঞ্জয়রা। পাওয়ার বলেন, শুধু কোলাপুর নয়, সাম্প্রতিকালে একাধিক ঘটনা ঘটল মহারাষ্ট্রে। রাজ্যে এত সাম্প্রদায়িক হানাহানি ছিল না। তাঁর অভিযোগ, সরকারই পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের হিংসায় উস্কানি দিচ্ছে বিভাজন প্রসারিত করতে।
শুক্রবার সকালে পাওয়ারের মেয়ের মোবাইলে হুমকি মেসেজ আসার পর তিনি মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার বিবেক ফানসালকারের সঙ্গে দেখা করেন। হস্তক্ষেপ দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের।
এরই মধ্যে রাজ্যে বিজেপি-এনসিপি গোলমাল শুরু হয়েছে একটি পোস্টার ঘিরে। বিজেপির এক বিধায়ক কোলাপুরের ঘটনার রেশ টেনে পাওয়ার ও ঔরঙ্গজেবের ছবি পাশাপাশি বসিয়ে এনসিপি সুপ্রিমোকে মোঘল সম্রাটের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এর প্রতিবাদে গোটা রাজ্য জুড়ে আন্দোলন শুরু করেছে এনসিপি সমর্থকেরা। সেই ঘটনা নিয়েও তীব্র অশান্তি শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, মহারাষ্টে এনসিপি-কংগ্রেস এবং শিবসেনার উদ্ধব গোষ্ঠীকে নিয়ে মহারাষ্ট্র বিকাশ আগাড়ি গড়ে ওঠার পিছনে প্রধান কারিগর মনে করা হয় পাওয়ার এবং সঞ্জয়কে। তাঁদেরই খুনের হুমকি দিয়ে ফোনে মেসেজ আসায় পরিস্থিতি ক্রমে তপ্ত হচ্ছে। বিশেষ করে পাওয়ারের মতো ওজনদার প্রবীণকে নিশানা করায় প্রশাসনও বিচলিত। বিজেপির রাজ্য সভাপতি চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে এনসিপি নেতাকে খুনের হুমকি দেওয়ার ঘটনাকে খুবই গুরুতর এবং দুশ্চিন্তার কারণ বলেছেন।
প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারকে সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদ, কুন্তলের চিঠি কাণ্ডে তলব দেবাশিসকে