
শেষ আপডেট: 11 October 2023 15:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘জীবনে যদি বারবার চোখ নয়, শুধু কান দিয়ে দেখে, একতরফাভাবে শুধু একজনের কথা শুনে কেউ সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ভুল সিদ্ধান্ত হতে বাধ্য।’ বুধবার সকালে নিজের ফেসবুক ওয়ালে এই সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন।
শান্তনুর ওই পোস্টের সঙ্গে আরজিকরের সাম্প্রতিক রদবদলের মিল খুঁজে পাচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, নাম না করে দলের একাংশের বিরুদ্ধেই জমে থাকা ক্ষোভ উগড়ে দিতে এই পন্থা নিয়েছেন আরজিকরের রোগী কল্যাণ সমিতির প্রাক্তন চেয়ারম্যান শান্তনু সেন।
আরজিকরের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদে বসার পরই হাসপাতালের বেনিয়ম নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন। আরজি করের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। তার পরই শান্তনুকে সরিয়ে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদে বসানো হয় শ্যামাপদ দাসকে। এমনকী ফের সন্দীপ ঘোষকে ফেরানো হয়েছে অধ্যক্ষ পদে। তারপরেই শান্তনুর এই পোস্ট। স্বভাবতই, শোরগোল শাসকদলের অন্দরেই।
এই মুহূর্তে দলের কাজে অসমে রয়েছেন শান্তনু। টেলিফোনে দ্য ওয়ালকে শান্তনু বলেন, “সরকার থেকে আরজিকরের চেয়ারম্যান করেছিল। অনেক অনিয়ম ধরেছিলাম। মনে হয়েছিল, ওগুলো নেত্রীর মতাদর্শের পরিপন্থী। তাই প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। আমার কাজ সরকারের ভাল করা। কোথাও কাজ করতে গিয়ে সরকারের মুখ পুড়তে দেখলে সেটা তো আটকানো দায়িত্ব থাকে। আমি সেটাই করেছি।”
খানিক থেমে ছুঁড়ে দিয়েছেন পাল্টা প্রশ্ন, “কেউ কি বলবে চোখ দিয়ে নয়, কান দিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত?” ফেসবুক পোস্ট কী আপনার অভিমানের প্রতিফলন? শান্তনু বলেন, “কীসের অভিমান? জীবনের সত্য লিখেছি। এটা সকলের জন্যই প্রযোজ্য। আপনি যদি আপনার কোম্পানির জন্য দিন রাত এক করে কাজ করার পরও বাইরের কেউ আপনার নামে বসের কান ভাঙায় এবং তিনি যদি অন্যের কথা শুনে আপনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেন, তাহলে আপনার কেমন লাগবে!”
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, স্বাস্থ্যের বেনিয়ম নিয়ে দলের অন্দরে সরব হয়েও কাজ না হওয়ায় এবার সোশ্যাল মাধ্যমকেই বেছে নিয়েছেন শান্তনু।