
শেষ আপডেট: 16 January 2024 21:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১২ জানুয়ারির পর ১৬ জানুয়ারি। ফের কেন্দ্রীয় এজেন্সির ডাকে সাড়া দিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হয়েছিলেন রেশন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা শঙ্কর আঢ্যর মেয়ে ঋতুপর্ণা আঢ্য।
মঙ্গলবার বেলা ১২টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন শঙ্কর কন্যা। সন্ধে ৬টার পর বাইরে আসেন তিনি। কী কী প্রশ্ন করলেন তদন্তকারীরা? কোনও নথি চাওয়া হয়েছে কি না? আবার কবে ডাকা হবে? ঋতুপর্ণার সংক্ষিপ্ত জবাব, “তদন্তের বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করব না।”
রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে গত ৫ জানুয়ারি রাতে বনগাঁর প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। সে সময় শঙ্করের পাশাপাশি তাঁর মেয়ে ও স্ত্রীও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব হয়েছিলেন। এদিন অবশ্য এবিষয়ে নতুন করে কোনও মন্তব্য করতে চাননি ঋতুপর্ণা। যা যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সোমবারই শঙ্করের চারটি কোম্পানির ৬টি অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। ওই সংক্রান্ত বিষয়েই জানতে এদিন তাঁর মেয়েকে তলব করা হয়েছিল বলে ইডি সূত্রের খবর। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অনুমান, শুধু নিজে নন, সপরিবারে রেশন দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, শঙ্কর আঢ্যর নিজের নামে যেমন রয়েছে এস আর আঢ্য ফিনান্স প্রাইভেট লিমিটেড, তেমনই তাঁর স্ত্রী জ্যোৎস্না আঢ্যর নামে রয়েছে অর্পণ ফোরেক্স প্রাইভেট লিমিটেড। এখানেই শেষ নয়, ছেলে, মেয়ে, মা এমনকী শ্যালকের নামেও রয়েছে একাধিক সংস্থা। আর এইসব সংস্থার মাধ্যমেই বাংলাদেশ ও দুবাইয়ে পরিবারের সদস্যদের নামে বিদেশে টাকা পাচারের কারবার চালাতেন বলে ইডি কর্তাদের দাবি।
দুর্নীতির তদন্তে ইতিমধ্যেই ৯৫টি বিদেশি মুদ্রা বিনিময় সংস্থার হদিশ মিলেছে। আদালতে জমা দেওয়া তালিকায় ইডির দাবি, ৬টি বিদেশি মুদ্রা বিনিময় সংস্থা শঙ্কর ও তাঁর পরিবারের নামে, বাকি সব সংস্থাই ছিল ‘ভুয়ো নামে’।
মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের গ্রেফতারের পর রেশন বণ্টন দুর্নীতির মামলার তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বালু-বাকিবুরের মাঝেই নতুন সংযোজন বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য। এ ব্যাপারে সম্প্রতি আদালতে তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রেশনে ১০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।