
শেষ আপডেট: 4 June 2023 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্যাতনে নৃশংসতা এবং ভয়াবহতার দিক দিয়ে যেন অবিকল 'নির্ভয়া কাণ্ড!' গত ২৮ মে দিল্লির শাহবাদ ডেয়ারি এলাকায় প্রেমিকের হাতে খুন হয়েছিল ১৬ বছরের কিশোরী। সিসিটিভি ক্যামেরায় ভয়ঙ্কর খুনের ঘটনা ধরা পড়েছিল। দেখা গিয়েছিল অন্তত ১৬ বার ছুরি দিয়ে কোপানোর পর পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে প্রেমিকাকে খুন করেছিল সাহিল। এবার কিশোরীর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেল, এলোপাথাড়ি কোপানোর জেরে নাবালিকার অন্ত্র খুবলে উঠে এসে পাকস্থলীর বাইরে ঝুলছিল! (Brutal Stabbing Left Intestines Hanging Out)
হাসপাতালের তরফ থেকে পুলিশকে দেওয়া ১৬-১৭ পাতার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ রয়েছে বলে সূত্রের খবর। তাতেই জানা গেছে, সাহিলের উপর্যুপরি ছুরির আঘাতে কিশোরীর ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদন্ত্র খুবলে বেরিয়ে এসে ঝুলছিল বাইরে। তার মাথার খুলির একাধিক হাড়ও পাথরের আঘাতে ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল বলে সূত্রের খবর।
আরও জানা গেছে, সারা দেহ মিলিয়ে নাবালিকার শরীরে মোট ১৬টি ছুরির ক্ষত খুঁজে পাওয়া গেছে। তার মধ্যে বেশিরভাগই রয়েছে কাঁধ থেকে পশ্চাদ্দেশ পর্যন্ত। দেহের একাধিক হাড়ও ভেঙে গিয়েছিল। এতেই প্রমাণ হয়, নাবালিকার উপর কী নারকীয় নির্যাতন করেছিল সাহিল, দাবি পুলিশের।
উল্লেখ্য, গত রবিবার দিল্লির শাহবাদ ডেয়ারি এলাকায় (Shahbad Dairy murder) প্রকাশ্যে ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরীকে ছুরি দিয়ে ১৬ বার কুপিয়ে, এবং তারপর রাস্তা থেকে পাথর কুড়িয়ে তা দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করে সাহিল। ভয়ঙ্কর সেই খুনের দৃশ্য ধরা পড়ে সিসিটিভি ক্যামেরায়। তাতে দেখা যায়, উপস্থিত সকলে ভয়ে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউই ওই যুবককে আটকানোর সাহস করেননি।
এই ঘটনায় পরেরদিন, অর্থাৎ সোমবার উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর থেকে সাহিলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গিয়েছিল, সাহিলের দাবি, তার সঙ্গে ওই ওই কিশোরীর গত ৩ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি সেই সম্পৰ্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল তার প্রেমিকা। এমনকী, এক প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গেও ফের তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছিল অভিযুক্ত। গত বৃহস্পতিবার প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতে তার বাড়ির সামনে গিয়েছিল অভিযুক্ত। (Delhi teen murder)
কিন্তু বন্ধুদের সামনেই তাকে অপমান করে সম্পর্ক জুড়ে নেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় কিশোরী। সেদিনই তাকে খুন করবে বলে ঠিক করে নিয়েছিল অভিযুক্ত। এরপর শুক্রবার হরিদ্বার থেকে সে একটি ছুরি কিনে আনে। একদিন অপেক্ষা করার পর রবিবার শাহবাদ ডেয়ারি এলাকায় প্রেমিকার বাড়ির সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে সে। সেদিন কিশোরী এক বন্ধুর ছেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাবে বলে বের হচ্ছিল। সে বাড়ি থেকে বেরোনো মাত্রই এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে অভিযুক্ত। আঘাতের তীব্রতায় ছুরিটি একসময় এমনভাবে কিশোরীর মাথায় গেঁথে গিয়েছিল যে সেটি বের করে আনা যাচ্ছিল না। এরপরেই রাস্তা থেকে পাথর কুড়িয়ে প্রেমিকার মাথা থেঁতলে তাকে খুন করে সাহিল। তারপর পালিয়ে যায় সেখান থেকে।
ঘটনাস্থল থেকেই সাহিলের জুতো এবং খুনে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিল পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন, এমন নৃশংসভাবে কিশোরীকে খুন করার পরেও কোনও অনুশোচনা নেই তার। (Delhi teen murder)
বরং সে যা করেছে, বেশ করেছে বলে দাবি সাহিলের। গত কয়েকদিন ধরেই নাকি প্রেমিককে উপেক্ষা করছিল নাবালিকা। আর সেই প্রত্যাখ্যান এবং অপমান সহ্য করতে না পেরেই তাকে প্রাণে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় সাহিল।
পুলিশ আরও জানিয়েছিল, খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য বুধবার সকালে অভিযুক্তকে ফের শাহবাদ ডেয়ারি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর অভিজ্ঞ মনোবিদদের উপস্থিতিতে তার সাইকোঅ্যানালিসিস টেস্ট করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তদন্তকারীরা।
যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতেই সহযাত্রীদের উদ্ধার! ‘জওয়ান’ গোবিন্দ কাজটুকু ভোলেননি