
শেষ আপডেট: 20 December 2023 21:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুন্দরীদের দেখার জন্যও কাটতে হবে টোকেন। এরপর পছন্দ হওয়ার পালা। টাকাপয়সায় রফা হলেই সুন্দরীরা পৌঁছে যাবে হোটেলের ঘরে। এমনকী হোয়াটসঅ্যাপে লিঙ্ক পাঠিয়ে সুন্দরীদের ছবি পাঠানোও হচ্ছে। সেখান থেকেই বেছে নিয়ে ডিল করতে হবে। গোটা ব্যাপারটাই হবে গোপনে। চাইলে গোটা ট্যুরটাই সঙ্গ দিতে পারেন সুন্দরীরা। সেখানে হোটেল মালিকেরও লাভ। এভাবেই দিঘা-মন্দারমনিতে মধুচক্রের রমারমা কারবার শুরু হয়েছে।
সামনেই বড়দিন। এইসময় দিঘা-মন্দারমনির মতো সৈকত শহরে উপচে পড়ে ভিড়। হোটেলের ঘর পাওয়াই মুশকিল হয়ে যায়। এই সময়টাতে পর্যটকদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। পুলিশ জানাচ্ছে, এই উৎসবের মরশুমেই দেহব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠছে সৈকত শহরগুলি। এর মধ্যে বিশেষ করে নজর কেড়েছে রামনগর। সেখানে কয়েকটি হোটেলে লাগাতার হানা দিচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। একটি হোটেল থেকে দুই মালিক-সহ সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই হোটেলে মধুচক্রের বেশ বড় কারবার চলছিল বলে দাবি পুলিশের। ১৬ জন যুবতীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানাচ্ছে, হোটেলের যে দুই মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের বাড়ি মন্দারমনির ডেরা গ্রামে। নাম সমীর প্রধান ও সোমনাথ প্রধান। বাকিরা সুবেড়িয়ার গ্রামের মির্জা সাত্তার বেগ, জুনপুট উপকূল থানার ছোট বানতলিয়া গ্রামের কার্তিক জানা, কাঁথির মহিষাগোটের শুভঙ্কর গিরি ও মহিষামুণ্ডা গ্রামের শুভময় পণ্ডা ও পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে তারক মাঝি। সকলকে জেরা করা হচ্ছে।
শুধু একটি হোটেল নয়, পুলিশের দাবি মন্দারমনিতে এমন কিছু হোটেলের খোঁজ পাওয়া গেছে যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা জেলা থেকে মহিলাদের ধরে এনে মধুচক্রের কারবার শুরু করেছে। তাদের কারও বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, কেউ ক্যানিং, বর্ধমানের বাসিন্দা। মেদিনীপুরের নানা জায়গা থেকেও মেয়েদের নিয়ে আসা হয়েছে। এমনকী দার্জিলিঙ থেকেও কয়েকজনকে আনা হয়েছে বলে খবর।
মন্দারমণি, তাজপুর, শংকরপুর কিংবা দিঘায় আসা পর্যটকেরা হোটেল সঙ্গী জোগাড় করে দেওয়ার কথা বললে ফোন মারফৎ যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয় দেহ ব্যবসায়ী চক্রের পান্ডাদের সঙ্গে। তারাই হোয়াটঅ্যাপসের মাধ্যমে সুন্দরী মহিলাদের ছবি পাঠিয়ে দেয়। সেইসঙ্গে কোন মহিলার জন্যে কত টাকা খরচ পড়বে তা জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে তার সঙ্গে যুক্ত হয় হোটেলের কমিশন। যে মহিলাকে পছন্দ হবে হোটেল এবং রুম নম্বর বলে দিলেই পৌঁছে যাবে। পুলিশ জানিয়েছে, এমন ১৬ জন মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের হোমে পাঠানো হয়েছে। হোটেলের মালিক ও মধুচক্রের পান্ডাদের এদিনই কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে তিনদিনের পুলিশ হেজাজতের নির্দেশ দিয়েছে।