দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুণের পরে মুম্বইতে করোনা টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু করল সেরাম ইনস্টিটিউট। টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে ৪৩ জনকে বেছে নিয়েছে বৃহন্মুম্বই পুরসভা। সকাল থেকে ১২ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা সুরক্ষার পরীক্ষায় পাশ করার পরে ভারতে অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় তৈরি কোভিশিল্ড টিকার ট্রায়াল শুরু করার জন্য অনুমতি দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোল। অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ডোজে এক মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা সামনে আসার পরে ভারতেও সেরামের টিকার ট্রায়াল থমকে গিয়েছিল। দ্বিতীয় পর্বের শেষেই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল সেরাম। তবে ড্রাগ কন্ট্রোলের সবুজ সঙ্কেত মেলার পরে পুণেতেই প্রথম তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল শুরু হয়। সেরাম জানিয়েছে এই পর্বে দেশজুড়ে প্রায় ১৬০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
পুণের স্যাসন হাসপাতালে কোভিশিল্ড টিকার ট্রায়াল চলছে। সেখানে ২০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, মুম্বইতেও সেরাম টিকার ট্রায়াল শুরু হয়ে গেছে। ১৮ বছরের ওপর ৪৬ জনকে প্রাথমিকভাবে বেছে নিয়েছে বৃহন্মুম্বই পুরসভা।
সেরাম জানিয়েছে, এটাই কোভিশিল্ড টিকার চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল। দেশের অন্তত ১৭টি হাসপাতালে এই ট্রায়াল চলবে। যার মধ্যে রয়েছে, দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল কলেজ (এইমস), পুণে বি জে মেডিক্যাল কলেজ, পাটনার রাজেন্দ্র মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল কলেজ, চণ্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, যোধপুর-এইমস, গোরক্ষপুরের নেহরু হাসপাতাল, বিশাখাপত্তনমের অন্ধ্র মেডিক্যাল কলেজ, মাইসোরের জেএসএস অ্যাকাডেমি অব হাইয়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ। এই পর্বে টিকার ট্রায়ালের রিপোর্ট দেখেই উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে।
সারা দেশে টিকার ডোজ ছড়িয়ে দিতে কম করেও ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছিলেন সেরামের সিইও আদর পুনাওয়ালা। তিনি বলেছিলেন প্রতি ভারতবাসীকে টিকা দিতে হলে যে বিপুল উৎপাদন দরকার এবং তার জন্য যে খরচ হবে সেটা প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। কোভিড ভ্যাকসিনের জন্য এই পরিমাণ টাকা কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ করতে পারবে কিনা সে প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি।
বস্তুত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় বলেন ভারতই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী দেশ। কারণ সারা বিশ্বকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করার ক্ষমতা আছে ভারতের। টিকার বিপুল উৎপাদন ও বিতরণের জন্য কেন্দ্রের তরফে সাহায্যের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাসের পরে মোদীর ভূয়সী প্রশংসা শোনা যায় আদরের মুখে। তিনি জানান, ভ্যাকসিন উৎপাদনই শুধু নয় সারা বিশ্বে সমবন্টনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ আগামী দিনে দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করবে।