দ্য ওয়াল ব্যুরো: কম দামেই দেশের মানুষজনের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়া হবে, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেরাম কর্তা আদর পুনাওয়ালা। গত মাসেই সেরাম জানিয়েছিল তাদের টিকার দুটি ডোজের দাম পড়বে হাজার টাকার কাছাকাছি। তবে এই দাম বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য। দেশের সরকারকে আরও কম দামেই টিকা বিক্রি করা হবে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারকে ডোজ প্রতি ২৫০ টাকা দামে টিকা সরবরাহ করা হবে।
ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির চ্যাডক্স টিকার ফর্মুলায় কোভিশিল্ড বানিয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট। দেশে এখন সেরামের টিকার তৃতীয় স্তরের ট্রায়াল চলছে। ১৫টি জায়গায় টিকা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি সেরামের টিকার প্রস্তুতি নিজের চোখে দেখতে পুণের রিসার্চ সেন্টারে ঘুরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এখনই টিকার চার কোটি ডোজ তৈরি আছে। ব্রিটিশ সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকার সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে ডিসেম্বরেই দশ কোটি টিকার ডোজ তৈরির প্রস্তুতি সেরেই রেখেছে সেরাম। জরুরি ভিত্তিতে টিকাকরণের প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।
কিছুদিন আগে টিকার ডোজে এক স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর সামনে আসায় ট্রায়াল বন্ধ হবে কিনা সে নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ড্রাগ কন্ট্রোল জানিয়েছে, সেরামের টিকায় কোনও গলদ নেই। ট্রায়ালে কোনও ভুলও হয়নি। তাই ট্রায়াল বন্ধ হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কোভিশিল্ড টিকায় সত্যিই গলদ আছে কিনা খতিয়ে দেখতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, নার্সিংহোম থেকে একজন করে অভিজ্ঞ ডাক্তার নিয়ে বিশেষজ্ঞের কমিটি তৈরি করে ড্রাগ কন্ট্রোল। দিল্লির এইমস, সফদরজঙ্গ হাসপাতাল, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও মৌলানা আজাদ মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারদের নিয়ে এই বিশেষজ্ঞের প্যানেল তৈরি হয়েছে। এই প্যানেলের তরফে জানানো হয়েছে টিকার ডোজে কোনও অ্যাডভার্স সাইড এফেক্ট দেখা যায়নি। ট্রায়ালের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থতার কোনও সম্পর্ক নেই।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের ডিরেক্টর জেনারেল ডক্টর বলরাম ভার্গব বলেছেন, টিকার ডোজ গুরুতর অসুস্থতার ঘটনা ঘটলে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। যে কোনও টিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সবচেয়ে আগে। টিকার প্রতিটি ডোজ, ট্রায়ালের পদ্ধতি ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয়ের উপর নজর রাখছে বিশেষজ্ঞের টিম। তাই চিন্তা বা আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।