সমকামের আইনি স্বীকৃতি নেই দেশে, তবু 'বাবা' হয়ে ইতিহাস গড়লেন সে দেশেরই সমকামী মহিলা প্রধানমন্ত্রী!
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সে দেশে আইনি স্বীকৃতি পায়নি সমকামিতা। কিন্তু সে দেশের প্রধানমন্ত্রীই খোদ লেসবিয়ান। আর তা নিয়ে কোনও দিনই কোনও রাখঢাক নেই তাঁর। এমনকী তাঁর নারী-সঙ্গীকেও কোনও দিন লোকচক্ষুর আড়াল করেননি সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী, আনা ব্রানবিচ। ত
শেষ আপডেট: 24 February 2019 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সে দেশে আইনি স্বীকৃতি পায়নি সমকামিতা। কিন্তু সে দেশের প্রধানমন্ত্রীই খোদ লেসবিয়ান। আর তা নিয়ে কোনও দিনই কোনও রাখঢাক নেই তাঁর। এমনকী তাঁর নারী-সঙ্গীকেও কোনও দিন লোকচক্ষুর আড়াল করেননি সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী, আনা ব্রানবিচ। তবে এবার সে সম্পর্কে সন্তানলাভের সিলমোহর পড়ল। প্রধানমন্ত্রী আনার সঙ্গী জন্ম দিলেন একটি পুত্রসন্তানের। 'বাবা' হলেন আনা। নিজেদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করলেন তাঁরা। বিশ্বের কাছে বার্তা দিলেন, সম্পর্কে লিঙ্গ জরুরি নয়। বাবা হওয়ার জন্যেও পুরুষ হওয়া আবশ্যিক নয়।
২০১৭ সালের জুনে ক্ষমতায় আসেন আনা ব্রানবিচ। খুব অল্প প্রশাসনিক ব্যক্তি নিজেদের সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন। তা-ও এমন একটি দেশে, যেখানে সমকামিতা নিয়ে ট্যাবু রয়েছে। তেমন একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে, প্রথম দিন থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা ছিলেন আনা। এ নিয়ে বিরোধীরা কুৎসা করার চেষ্টা করলেও, আনা নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ দিয়ে সারা দেশের মানুষের মন জয় করেছেন সহজেই। তবে শুধু সম্পর্ক নয়, তিনি যে বাবাও হবেন, তার আঁচ ছিল না দেশের মানুষের।
প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকেই জানানো হয়েছে, আনার সন্তানের ডেলিভারি ভাল ভাবেই হয়েছে। সে ও তার মা সুস্থ রয়েছে।
এলজিবিটি গোষ্ঠীর মানুষের বলছেন, এ যেন এক নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন সার্বিয়ান প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পার্টনার। কারণ ওই দেশে সমলিঙ্গে বিবাহ এখনও বৈধ নয়। তাই সেই দেশে এই ঘটনাটিকে এলজিবিটি মুভমেন্টের ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে লড়াই খুব সহজ নয়। চলতি মাসেই সর্বিয়ার বেলগ্রেডে এ,লজিবিটি সেন্টারে এ দু'-দু‘বার হামলা করেছে দুষ্কৃতীরা। সে সময় প্রধানমন্ত্রী আনা বলেছিলেন, "আমি আমার ব্যক্তিগত মত এই সময় বলতে চাই না। আমি এখানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এসেছি। সার্বিয়া সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছি।"
প্রসঙ্গত উল্লখ্য, এই মুহূর্তে এলজিবিটি মুভমেন্ট নিয়ে সার্বিয়ায় বড়সড় আন্দোলন চলছে। যাতে পক্ষ ও প্রতিপক্ষ দু‘দলই নিজেদের মত থেকে সরে আসতে নারাজ। এই অবস্থায় সমকামী প্রধানমন্ত্রীর এই সুখবর আন্দোলনের পালে অনেকটাই হাওয়া জোগাল।