
শেষ আপডেট: 28 October 2020 06:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো : লকডাউনের সময় প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল দেশের অর্থনীতি। ফলে বিভিন্ন হাইওয়ে হয়ে গিয়েছিল শুনশান। পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আনলক পর্বে ফের শুরু হয়েছে পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল। সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন হাইওয়ে থেকে যে টোল আদায় হয়েছে, তাতেই বোঝা যাচ্ছে, দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহণ বেড়েছে। অতিমহামারীর ধাক্কা সামলে ক্রমশ সচল হয়ে উঠেছে অর্থনীতি।
সারা দেশের জাতীয় সড়কগুলির ইলেকট্রনিক টোল কালেকশনের ডাটা সংগ্রহ করেছে রেটিং এজেন্সি ক্রিসিল। তাতে দেখা গিয়েছে, সেপ্টেম্বরে হাইওয়েগুলির ওপর দিয়ে প্রায় ১১ কোটি গাড়ি চলাচল করেছে। তার ফলে টোল আদায় হয়েছে ১৯৪১ কোটি টাকা।
মে মাসের শুরুতে ক্রিসিলের রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল, লকডাউনের ফলে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার টোল আদায় প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। মার্চ থেকে জুনের মধ্যে ৩৪৫০ থেকে ৩৭০০ কোটি টাকা কম টোল আদায় হবে। এপ্রিল মাসে টোল আদায় হবে ৯০ শতাংশ কম। মে মাসে ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ এবং জুন মাসে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম টোল আদায় হবে।
জুন মাসের শেষে বিধিনিষেধ শিথিল করার পরে হাইওয়েতে ট্রাফিক বাড়তে থাকে। কোভিড অতিমহামারীর আগে যে পরিমাণ টোল আদায় হত, তখন তার দুই তৃতীয়াংশ আদায় হতে থাকে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে হাইওয়ে দিয়ে ১০ কোটি গাড়ি চলাচল করেছিল। মার্চে গাড়ির সংখ্যা কমে হয় সাড়ে আট কোটি ৫০ লক্ষ। এপ্রিলে চলাচল করে মাত্র ১ কোটি গাড়ি। মে মাসে সাড়ে পাঁচ কোটি গাড়ি চলে।
ক্রিসিল রিসার্চের ডিরেক্টর ইশা চৌধুরি বলেন, "এপ্রিলে গাড়ি চলাচল ব্যাপক কমে গিয়েছিল। তারপর দফায় দফায় আনলক করায় ফের ট্রাফিক বৃদ্ধি পায়।" পরে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি চলাচল করেছে কোভিড পূর্ব সময়ের মতোই। শুধু তাই নয়, চলতি ক্যালেন্ডার ইয়ারে সেপ্টেম্বরেই গাড়ি চলাচল করেছে সবচেয়ে বেশি।
আইআরবি ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুধীর হোশিয়াং বলেন, "মুম্বই-পুনে হাইওয়েতে ট্রাফিক ক্রমশ বাড়ছে। অন্যান্য হাইওয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়।"
প্রতি বছর দেশে টোল কালেকশন আট থেকে ১০ শতাংশ বাড়ে। চলতি বছরে টোল সংগ্রহ সম্ভবত বাড়বে পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ। দেশে ম্যানুফ্যাকচারিং ও মাইনিং শিল্প চাঙ্গা হয়ে উঠেছে গত কয়েক মাসে। তার ফলে বেড়েছে পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল।