দ্য ওয়াল ব্যুরো : বাবরি মামলার রায়দানের জন্য বাড়তি একমাস সময় পেল সিবিআই কোর্ট। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণী সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মামলায় রায় দিতে হবে ৩১ অগাস্টের মধ্যে। কিন্তু শনিবার শীর্ষ আদালত লখনউয়ের সিবিআই কোর্টকে জানাল, বিচার শেষ করে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রায় দিতে হবে।
সিবিআই কোর্টের বিশেষ বিচারপতি এস কে যাদব মামলা শেষ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে বাড়তি সময় চেয়েছিলেন। সেই আর্জি এদিন মঞ্জুর করল শীর্ষ আদালত। ২০১৭ সালের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, দু'বছরের মধ্যে শুনানি শেষ করতে হবে সিবিআই কোর্টকে। সেজন্য রোজ শুনানি করতে হবে।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভাঙা পড়েছিল বাবরি মসজিদ। সেই মামলায় অভিযুক্তের সংখ্যা ৩২। আডবাণী বাদে অভিযুক্তদের তালিকায় আছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলীমনোহর যোশি। উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং-ও আছেন অভিযুক্তের তালিকায়। তাঁদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে আদালতের সামনে বক্তব্য পেশ করতে চান।
গত ৫ অগস্ট অযোধ্যায় সেই ঐতিহাসিক রামমন্দিরের ভূমিপূজন হয়ে গিয়েছে। তার আগে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন আডবাণী। তিনি বলেন, তাঁর কাছে এই দিন শুধু ঐতিহাসিক নয়। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণেরও বটে।
ওই ভিডিও বার্তায় রামমন্দির আন্দোলনের পুরোধা নেতা বলেছেন, “জীবনের কিছু স্বপ্ন পূর্ণ হতে সময় লাগে। কিন্তু যখন তা চরিতার্থ হয়, তখন মনে হয় প্রতীক্ষা সার্থক হল।’’ রাম জন্মভূমিতে রামমন্দির তৈরি যে ভারতীয় জনতা পার্টিরও স্বপ্ন ও লক্ষ্য ছিল তাও উল্লেখ করেন ৯২ বছর বয়সী এই নেতা। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রামমন্দিরের ভূমিপজন করবেন। এটা সমস্ত ভারতীয়র কাছে একটা মহৎ দিন। অযোধ্যায় ভব্য রামমন্দির নির্মাণ ভারতীয় জনতা পার্টিরও স্বপ্ন ছিল।”
গত বছর নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল রামমন্দির নির্মাণের। আডবাণী বলেন, “সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে শান্তিপূর্ণ বাতাবরণে মন্দির তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। এটা ভারতীয়দের পারস্পরিক সম্পর্ককে মজবুত করতে সাহায্য করবে। শ্রীরামচন্দ্র ভারতীয় সংস্কৃতি ও সভ্যতার সর্বোচ্চ প্রতীক। বিনয় ও শিষ্টাচারের মূর্ত রূপ। কাউকে বহিষ্কৃত না করে সুশাসন কায়েম হলে তবেই রামরাজ্যের পথে আমরা এগোতে পারব।”
অনেকের মতে, আডবাণীর এই শিষ্টাচার ও বহিষ্কারের প্রসঙ্গ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি তো বটেই রামমন্দিরের ভূমিপূজনে তাঁর আমন্ত্রণ পাওয়া, না পাওয়া নিয়েও একপ্রস্থ নাটক হয়েছে। প্রথমে জানা যায়, তাঁকে এবং মুরলী মনোহর যোশীকে নেমন্তন্নই করা হয়নি। যদিও পরে ফোনে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলা হয়, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যেন তাঁরা ভূমিপুজোতে যোগ দেন। এ ব্যাপারে রামমন্দির তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে আডবাণীজির বয়সের জন্যই তাঁরা তাঁকে দিল্লি থেকে অযোধ্যায় আসার কথা বলেননি। কিন্তু তাতে বিতর্ক থামেনি। আডবাণীর ভিডিও বার্তায় সুশাসন, বহিষ্কার, শিষ্টাচার—এই শব্দগুলোই যেন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।